১২ হাজার টাকা সুদে ধার দেওয়ার পর জামানত হিসেবে নেওয়া ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দাদন ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের শিধোর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর উত্তম কুমার রায় অভাবের তাড়নায় বছর তিনেক আগে প্রতিবেশী খাদেমুল ইসলামের কাছ থেকে সুদে ১২ হাজার টাকা ধার নেন। বছর ঘুরতেই সুদে-আসলে সেই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়। পরে সুদে-আসলে সেই টাকা পরিশোধ করলেও জামানত হিসেবে দেওয়া স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেকটি ফেরত দেননি খাদেমুল। উল্টো ওই চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে উত্তমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন তিনি। এই মামলার আইনি লড়াই করতে গিয়ে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ওই দিনমজুর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু উত্তম কুমারই নন, খাদেমুলের এই অবৈধ সুদের কারবার ও ফাঁকা চেকে প্রতারণামূলক মামলার শিকার হয়ে ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুদের জালে ফেলে বহু মানুষকে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী খমির উদ্দীন বলেন, "২০২০ সালে আমি সাত হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মামলা দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে আমি সেই মামলা থেকে নিস্তার পেয়েছি।"

অন্যদিকে উত্তম কুমার রায় বলেন, "কয়েকবার সালিসে বসেছি। স্থানীয়রা ১১ মাসের সুদসহ ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলেছিল, আমি রাজি ছিলাম। খাদেমুলের পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। কিন্তু সে মানেনি, মামলা করে দিয়েছে। তার মিথ্যা মামলায় আজ আমি নিঃস্ব।"

তদন্তে জানা গেছে, কেউ সুদে টাকা চাইলে খাদেমুল নিজেই তাকে ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে হিসাব খুলে দিতেন এবং চেকবহির সবগুলো পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে নিজের কাছে জমা রাখতেন। পরবর্তীতে সুদের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে ওই চেক ব্যবহার করে মামলা করে হয়রানি করতেন তিনি।

সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। বুধবার অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত খাদেমুলকে আটক করা হয়।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। আইন অনুযায়ী আসামিকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের অবৈধ ও শোষকমূলক দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে শুধু আইনি ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, এদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।"