সুনামগঞ্জের দিরাই-রানীগঞ্জ সড়কের হাতিয়া গ্রামের একটি সেতুর ওপর বালু ও পাথর স্তূপ করে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ডের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ এলাকাবাসী। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কয়ছর আহমদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার কালনী নদীর পূর্ব পাড়ের সরালিটোপ থেকে কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রাম হয়ে সড়কটি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় যুক্ত হয়েছে। এই সড়কটি দিয়ে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রামের মানুষ সুনামগঞ্জ ও সিলেটে যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রতিদিন আকিল শাহ বাজারসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য স্থানীয়রা এই পথটি ব্যবহার করেন। সড়কটির হাতিয়া গ্রামের মাঝপাড়ার মোল্লা বাড়ির কাছের খালের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি পুরোনো ও ১০ ফুট প্রশস্ত সেতু রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সেতুর প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা করছেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা কয়ছর আহমদ। স্থানীয় লোকজন ও অটোরিকশাচালকেরা বারবার বালু সরানোর অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো গালিগালাজ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, “এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি গ্রামের মানুষ, দুটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করে। কিন্তু সেতুর ওপর বালু স্তূপ করে রাখার কারণে সবাইকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
আকিল শাহ অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি শিশু মিয়া জানান, চালকদের সূত্রে তিনি জেনেছেন যে কয়ছর মিয়া সেতুর ওপর ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট বালু ফেলে রেখেছেন, যার ফলে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বালু সরাতে বললে তিনি উল্টো চালকদের গালিগালাজ করেন। আমরা বিষয়টি আকিল শাহ বাজার কমিটিকে জানিয়েছি। সেতুটি এমনিতেই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ, তার ওপর বালুর স্তূপের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
আকিল শাহ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুর অর্ধেক জায়গা বালুতে ঢেকে থাকায় সবারই কষ্ট হচ্ছে। কয়ছরকে বালু সরাতে বললে সে উল্টো-পাল্টা কথা বলে। সেতুর ওপর থেকে বালু সরানোর জন্য তার চাচা আব্দুস সালামকে বলা হয়েছে।”
বালু-পাথরের ক্রেতা পরিচয়ে কয়ছর আহমদের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রথমে বলেন, “সেতুর ওপর প্রায় ৫০০ ফুট বালু আছে, নেওয়া যাবে।” তবে সেতুর ওপর কীভাবে ব্যবসা করছেন জানতে চাইলে তিনি কথা ঘুরিয়ে বলেন, “আমি সেতুর ওপর কোনো বালু-পাথর রাখি না। এই বালু আমার নয়; তহুর নামের এক ব্যক্তি কিনে সেতুর ওপর রেখেছেন।”
এলজিইডির দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, হাতিয়া গ্রামের কাছে সেতুর ওপর বালু-পাথর রেখে ব্যবসা করার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। লোক পাঠিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”