দেশে জ্বালানি গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল, লোডশেডিং এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে খেলাফত মজলিস। দলের নেতাদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজিচালিত যানবাহনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়ে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও তথ্য সম্পাদক আবদুল হাফিজ খসরুর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

বৈঠকে খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, "এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বিগত পাঁচ মাসে জ্বালানি খাতে একের পর এক ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠছে। সরবরাহ চেইন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা দিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। সরকারকে ভোগান্তি নিরসনে জনগণের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির চিত্র সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে। তারা বলেন, "গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনে আর কোনো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হোক ছাত্র-জনতা তা চায় না। শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হলে মেধার সুস্থ বিকাশ রুদ্ধ হবে। হল ও ক্যাম্পাসে দলীয় আধিপত্যবাদী আচরণ বন্ধ করতে হবে।"

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে পক্ষপাতমুক্ত আচরণ করার আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানায় খেলাফত মজলিস।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আবদুল হাফিজ খসরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, খন্দকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, মাওলানা নুরুল হক, আবুল হোসেন এবং আমীর আলী হাওলাদার প্রমুখ।