দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ চাপে পড়ে। দলের অন্য কেউ পঞ্চাশের ঘর ছুঁতে পারেননি। তানজিদ হাসান এবং মুশফিকুর রহিম শূন্য রানে আউট হন। এরপর সাতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরেন এবং সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকেন।
উইকেটে যখন মিরাজ নামেন, তখন বাংলাদেশ ১০৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। তিনি দলের রানকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন; তবে অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে খুব একটা সহযোগিতা আসেনি। একসময় ১৯৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে খুব দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৬৯ রান যোগ করেন মিরাজ। এতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রানের সংগ্রহ পায়।
দিন শেষে বিসিবির পাঠানো ভিডিওতে মিরাজ ব্যাটিং নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি শুধু চেষ্টা করেছি মেরিট অনুযায়ী খেলার। ওদের বোলাররা খুব ভালো জায়গায় বোলিং করেছে।’
তিনি শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে খেলেন। ৭৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মিরাজ। সেঞ্চুরির পথে পরের পঞ্চাশ রান আসে মাত্র ৫৩ বলে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যান ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪১ বলে ১০৯ রান করেন।
দিন শেষে মিরাজ স্বীকার করেন, কাজটা সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য একটু কঠিন ছিল, যেহেতু এই প্রথম এ কন্ডিশনে খেলছি। আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি। প্রথম দিকে রানের জন্য খেলিনি। চেষ্টা করেছি কীভাবে উইকেটে মানিয়ে নেওয়ায় যায়। পরে যখন সুযোগ পেয়েছি, রান করা সহজ হয়েছে।’
১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে হবে দ্বিতীয় টেস্ট। ২৩ বছর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে এই সেঞ্চুরি তাঁকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলেও জানান মিরাজ।
মিরাজ বলছেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে টেস্ট ম্যাচ আছে, এটা (সেঞ্চুরি) আমাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। আমি যে মাইন্ড সেটআপে ছিলাম, এটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, আমার জন্য ভালো হবে। দলের জন্যও ভালো হবে।’