কুষ্টিয়ার খোকসায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান রাজুর ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকসা থানাপাড়া এলাকায় তার বাড়ির গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত রাজুকে বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন নাফিজ আহমেদ খান রাজু। বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার পথরোধ করে এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ে কোপ দেয় এবং লোহার হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে বলে জানা গেছে।
রাজুর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আতঙ্ক ছড়াতে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় বাড়ির গেট লক্ষ্য করে অন্তত ১৬টি গুলি ছোড়া হয় এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, "আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।"
স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাফিজ আহমেদ খান রাজু বলেন, "পৌরসভা নির্বাচনে আমি যেন অংশ নিতে না পারি, সেই উদ্দেশ্যেই আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনকে আগে থেকেই আমার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলাম।"
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান পুনম জানান, "রাজুর চিৎকার শুনে বাইরে এসে গুলির শব্দ ও ককটেলের বিস্ফোরণ দেখতে পাই। প্রাণ বাঁচাতে রাজু বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা গেট লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।"
এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, "অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা হামলার পরপরই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।"