কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধূ গোলাপি খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) র‍্যাব-১৩ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মো. হাসিনুর রহমান, ৩ নম্বর আসামি মো. আব্দুল মতিন এবং ৬ নম্বর আসামি মো. রহমত আলী। তারা সবাই কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইর এলাকার বাসিন্দা।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত গোলাপি খাতুনের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ ছিল। এই বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য তিনি কুড়িগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যার শুনানির তারিখ ছিল গত ২৯ জুলাই।

তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৬ জুলাই মামলার ২ নম্বর আসামি হেলাল মিয়া জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মোবাইল ফোনে গোলাপি খাতুনকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই রৌমারী উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবার পানিতে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে ৩০ জুলাই রৌমারী থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ (রংপুর) এবং র‍্যাব-৪ (সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্প)-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সাভারের দক্ষিণ রাজাশান এলাকা থেকে প্রধান আসামি হাসিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৩টার দিকে সাভারের আইচানোয়াদ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামি আব্দুল মতিন ও রহমত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।