ফেসবুকে রক্তদানের আকুতি জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর গাড়িভাড়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক চক্র। এই প্রতারণার কারণে সময়মতো রক্ত সংগ্রহ করতে না পারায় বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক প্রসূতি নারী।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন হাসান নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে তিনি চাটখিল/সুবর্ণচর এলাকার চর জব্বার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ২-৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শর্মিন জাহান পপি প্রসূতি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে ‘বি নেগেটিভ’ (B Negative) রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্ত পাওয়ার আশায় তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন।

গত ৩ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই পোস্ট দেখে দুটি ফোন নম্বর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা তাকে কল করেন। তারা রক্ত দিতে হাসপাতালে যেতে ইচ্ছুক বলে জানান, তবে শর্ত হিসেবে গাড়িভাড়া বাবদ অগ্রিম টাকা চাওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী আনোয়ার তাদের বিকাশ নম্বরে ১ হাজার ৫৩০ টাকা পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাকা পাওয়ার পরপরই প্রতারক চক্রটি তাদের ব্যবহৃত নম্বর দুটি বন্ধ করে দেয়। পরদিন ৪ আগস্ট অনেক চেষ্টার পর নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে প্রতারকরা রক্ত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ফোনে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি পুলিশ বা আইনের আশ্রয় নিলে তাকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। রক্তের তীব্র সংকটের মুহূর্তে চোখে শষ্য ফুল দেখছি। দিকবিদ্বিক ছুটাছুটি করে রক্ত জোগাড় করতে হয়েছে। সামান্য টাকা নিয়ে গেছে এটার জন্য আক্ষেপ নেই। কিন্তু প্রতারণা করায় চরম বিপদে পড়ে যাই। যথাসময়ে অপারেশন করতে পারিনি রক্তের অভাবে। তারা শুধু টাকাই নেয়নি, আমার স্ত্রীর জীবন নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছে। আমি এই প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এই বিষয়ে চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত নম্বর ও বিকাশ ট্রানজেকশন আইডির সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।