জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে ত্রাণের প্যাকেট প্রদান করায় নীলফামারীতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সম্মাননা স্মারক বা ক্রেস্টের পরিবর্তে সাধারণ ত্রাণের প্যাকেট দেওয়ার এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংবর্ধিত যোদ্ধারা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম এবং এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ।
জানা গেছে, সকালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত সবার মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মানবিক সহায়তার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। ব্যাগের ভেতর চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, সেমাই, লবণ ও গুঁড়া মরিচ ছিল। উপহারের ভেতরে ত্রাণসামগ্রী দেখে উপস্থিত গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আহত জুলাই যোদ্ধা শাকিল চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পুনর্বাসন দেওয়া প্রত্যাশিত। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ত্রাণের প্যাকেট দেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
আরেক আহত যোদ্ধা লিয়াকত হোসেন আশিক বলেন, “দেওয়ার সময় ব্যাগে লেখা ছিল ‘জেলা প্রশাসনের উপহার’। বাসায় এসে দেখি ভেতরে ত্রাণসামগ্রী, যা মূলত গরিব-দুস্থ মানুষের পাওয়ার কথা। আমাদের কিছু দেওয়ার না থাকলে না দিলেও হতো, একটি ক্রেস্ট বা সম্মাননা স্মারক দিলেই আমরা খুশি হতাম।”
একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অন্য এক জুলাই যোদ্ধা জানান, এই ত্রাণ দুস্থদের হক ছিল, তা নষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধি শ্রেষ্ঠ সরকার জানান, ব্যাগে একটি মগের পাশাপাশি ত্রাণের সামগ্রী ছিল, যা তারা পরে বাসায় গিয়ে টের পান।
এই বিষয়ে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, সংবর্ধনা দেওয়া বা উপহার কেনার জন্য আলাদা কোনো বাজেট ছিল না। বাজেট না থাকায় এবং অন্যান্য জেলাতেও একইভাবে করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।