জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হতাহতের ঘটনায় সিরাজগঞ্জে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করা হলেও দুই বছরে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ মাত্র ছয়টি মামলায়। বাকি নয়টি মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
বিভাগীয় পুলিশ উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দায়েরকৃত ১৫টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলা আটটি এবং অন্যান্য অভিযোগে মামলা সাতটি। এর মধ্যে আলোচিত শহীদ রঞ্জু, সুমন ও লতিফ হত্যার তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তবে এনায়েতপুর থানায় হামলা ও পুলিশ হত্যাসহ বাকি পাঁচটি হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিরাজগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মুনতাছির মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, "২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় আটটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তিনটি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। বাকি মামলাগুলো কি অবস্থায় আছে সেটা জানি না। পুলিশ মামলার আসামিদের ধরতে নানা টালবাহানা করছে। আমরা একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতাদের কেন ধরতে পারছে না সেটাই বুঝতে পারছি না। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারকাজ শেষ করতে হবে।"
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এক দিনে সিরাজগঞ্জে ছাত্র-জনতার ৩২ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন শত শত মানুষ। ওইদিন সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়া এবং শহরের বিভিন্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার মিছিলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক ঘণ্টার মাথায় পুলিশ পিছু হটলে অস্ত্রধারীরা ছাত্র-জনতার লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি চালায়।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের সড়কে গুলিতে তিন জন নিহত হন। এরপর এনায়েতপুরে তিন ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং থানা আক্রমণে ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া রায়গঞ্জ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকসহ ৬ জন এবং সন্ধ্যায় সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসা থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ নিহতদের স্বজনরা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। শহীদ ছাত্রদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমী খাতুন বলেন, "আমার স্বামীকে ফিরে পাব না। মামলার অনেক আসামি এখনও ধরা পড়েনি। জানি না মামলার আসামিরা ধরা পড়বে কি না।"
মামলার আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাকিল হায়দার রফিক সরকার বলেন, "আলোচিত তিনটি হত্যা মামলা চার্জশিট আদালত গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও প্রক্রিয়াজনিত কারণে বিচারে একটু সময় লাগে।" তবে চাইলে এই প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ জানান, আলোচিত হত্যা মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এজাহারভুক্ত আসামির বাইরে তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মামলায় যুক্ত করা হবে।"