ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দিলে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা হবে— ফিফার পক্ষ থেকে এমন শর্ত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংস্থাটির সভাপতি প্রিন্স আলি বিন আল হুসেইন। তার মতে, পুরো বিষয়টি ‘ব্ল্যাকমেলের’ শামিল।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ জানান ফিফার সাবেক সহসভাপতি প্রিন্স আলি। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছর তিনটি পৃথক বিষয়ে ফিফার সহায়তা চেয়েছিল জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, তবে কোনোটিতেই কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

প্রথম সমস্যাটি ছিল বিশ্বকাপের সময় জর্ডানের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া নিয়ে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা জর্ডানের অনেক সমর্থক চড়া দামে টিকিট কিনেও ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কারণে জর্ডানের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত কর। প্রিন্স আলির দাবি, এই ব্যয় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিকল্পনায় ছিল না এবং জর্ডানকে কানাডা কিংবা মেক্সিকোয় রাখা হলে এই কর দিতে হতো না।

এছাড়া গত ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা আরব কাপের প্রাপ্য অর্থও এখনো পায়নি জর্ডান। ওই প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠা দলটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোর কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল।

প্রিন্স আলির অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে এসব বিষয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপ চলাকালে তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন জানালে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমস্যা সমাধানে সেটি সহায়ক হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আগেও তাকে সমর্থন করিনি, এখনো করব না। পুরো পরিস্থিতি ব্ল্যাকমেলের শামিল এবং আমরা এর কাছে নতি স্বীকার করব না।’

অভিযোগের বিষয়ে ফিফার কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

জর্ডানের সাবেক বাদশাহ হুসেইনের তৃতীয় ছেলে এবং বর্তমান বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর ভাই প্রিন্স আলি এশিয়ার ফুটবলে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি ১২ সদস্যের পশ্চিম এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফিফার সহসভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালে সেপ ব্ল্যাটার এবং ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

এমন এক সময়ে এই অভিযোগ সামনে এল যখন নিজের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে চাপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনায় আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে সেটির ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, উয়েফা ও কনকাকাফের বিরোধিতার মুখে গত শনিবার পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে নেন ইনফান্তিনো। এর ফলে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন তুলে নিয়েছে। এই সংকটের মধ্যেই এবার সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেলের’ অভিযোগ উঠল ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।