অনিবার্য কিন্তু অভাবনীয় একটি ঘটনা ঘটেছিল আজ থেকে দুই বছর আগে, ৫ আগস্ট ২০২৪—স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার পতন এবং পলায়ন। প্রায় ১৬ বছর ধরে নিপীড়ন–নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ওই সময়ের আগে গড়ে ওঠা ৩৫ দিনের আন্দোলনে প্রকাশ পায়।
জনগণ যখন স্বৈরাচারী শাসকের অত্যাচারের ভয়কে জয় করে, তখন তার পতনও অনিবার্য হয়ে ওঠে—৫ আগস্টের আগেই বাংলাদেশ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে কারণে ৫ আগস্ট ছিল বাস্তবতার শেষ পর্ব; হাসিনার পলায়নও এক অর্থে অবশ্যম্ভাবী ছিল। শেখ হাসিনা দম্ভোক্তি করেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না, পালিয়ে যায়নি কখনো।’
হাসিনার পলায়নের দুই বছর হয়েছে। ইতিমধ্যে পলাতক অবস্থায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এই সময়ে তিনি ভারতে আশ্রিত অবস্থায় আছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিত হন, বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। কিন্তু তাঁর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কী—এ প্রশ্নই মুখ্য হয়ে থাকে। অতীতে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলাতক শাসকদের পরিণতি কেমন হয়েছে, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য পথ কী হতে পারে—সেটি বিবেচনায় আনা দরকার।
অনেক ক্ষেত্রে গণ-অভ্যুত্থানের চাপে যে স্বৈরশাসকরা দেশত্যাগ করতে পারেন না বা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, তাঁরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের মুখোমুখি হন। লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির ইতিহাস ২০১১ সালের; রোমানিয়ার নিকোলাই চচেস্কু ১৯৮৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পলায়নের সময় সস্ত্রীক বিক্ষোভকারীদের হাতে ধরা পড়েন এবং তাঁদের হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে যারা অন্য দেশে আশ্রয় নিতে পেরেছিলেন, তাঁদের কারও কারও পরিণতি দেখা যায় নীরবে-লোকচক্ষুর আড়ালে। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর, পলাতক রেজা শাহ পাহলভি অসুস্থ অবস্থায় কায়রোতে মৃত্যুর আগপর্যন্ত মাত্র দেড় বছরে ছয়টি দেশে আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরেছেন। ফিলিপাইনে ২০ বছর দেশ শাসনের পর ১৯৮৬ সালে ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে আশ্রয় নেন, সেখানে তিনি ১৯৮৯ সালে মারা যান।
আফ্রিকার দেশ চাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেন হাবরের ১৯৯০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যান সেনেগালে; সেখানেই ২০২১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিউনিসিয়ার শাসক জেইন বেন আলী ২০১১ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সৌদি আরবে আশ্রয় নেন, ২০১৯ সালে তিনি মারা যান। এসব শাসক নিজ শাসনকালে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছিলেন—দেশের ভেতর এবং বিশ্বের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছিলেন; কিন্তু তাঁদের মৃত্যুসংবাদ বহুক্ষেত্রেই তেমন গুরুত্ব পায়নি। তাঁদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন বা খবরও অনেকের অজানায় থেকে গেছে।
পলাতক শাসকদের একটি বড় অংশ অন্য দেশে আশ্রয়লাভের পর রাজনৈতিক জীবন থেকে কার্যত অবসর গ্রহণ করেন। সবার অজ্ঞাতে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করেন। সিরিয়ার বাশার আল–আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, কিন্তু তার পর থেকে তাঁর অবস্থান বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি, তাঁর কাছ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্যও শোনা যায়নি।
আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান আশরাফ গনির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। তালেবান কাবুল দখল করলে ২০২১ সালের আগস্টে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ইউক্রেনে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে; প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পলায়ন করেন। এত দিন বলা হচ্ছিল যে তিনি রোস্টভ শহরে বাস করছেন।
তবে এ বছরের জুলাই মাসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তিনি ছদ্মনাম ধারণ করে সোচি শহরে বাস করছেন। ধারণা করা হয় যে আশ্রয়দাতা দেশগুলো কূটনৈতিক বিবেচনায় পলাতকদের এই শর্তেই আশ্রয় দিয়ে থাকে।
পরাজিত ও পর্যুদস্ত হয়ে, এবং কার্যত তাঁদের সমর্থকদের থেকে বিচ্ছিন্ন এসব সাবেক শাসক নিজেরাও কি রাজনীতিতে ফিরতে আগ্রহী হন—না কি পুরোপুরি সরে যান—তা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ব্যাপক সম্পদ দিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেই তাঁরা সম্ভবত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পলাতক এসব শাসককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের সম্মুখীন করার চেষ্টা করা হলেও সাফল্য তুলনামূলকভাবে কম। ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে ইথিওপিয়ার শাসক মেঙ্গেতসু হাইলে মারিয়াম জিম্বাবুয়ে পালিয়ে গেলে তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করা হয়। ইথিওপিয়া সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও জিম্বাবুয়ের সরকার তাতে রাজি হয়নি। জিম্বাবুয়ের শাসক রবার্ট মুগাবের পতনের পর এ রকম ইঙ্গিত ছিল যে হাইলে মারিয়ামকে প্রত্যর্পণ করা হবে। কিন্তু তা ঘটেনি।
পেরুর শাসক ফুজিমোরি ২০০০ সালে পালিয়ে জাপানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পেরু সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জাপান প্রত্যাখ্যান করে এ যুক্তিতে যে তিনি একই সঙ্গে জাপানের নাগরিক। তবে ফুজিমোরি ২০০৫ সালে স্বেচ্ছায় চিলিতে আসেন, পেরু সরকারের জারি করা একটি আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাঁকে সেখানে আটক করা হয়। ২০০৭ সালে চিলি তাঁকে পেরুর কাছে প্রত্যর্পণ করে।
কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ ২০১০ সালে বেলারুশে পালিয়ে যান। কিরগিজ সরকার তখন থেকে বাকিয়েভের প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে, বেলারুশ তাতে কর্ণপাত করছে না; বেলারুশে বাকিয়েভ সরকারি আতিথ্যেই আছেন।
পলাতক ব্যক্তিদের নিজ দেশে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচারের ঘটনা স্বাভাবিক বলেই বিবেচিত। ইথিওপিয়ার হাইলে মারিয়ামের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে বিচার শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। ২০০৬ সালে এই মামলার শেষে তাঁকে আদালত যাবজ্জীবন দণ্ড প্রদান করেন। ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতে করা আপিলের রায়ে তাঁর যাবজ্জীবন দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তিউনিসিয়ার আদালত ২০১২ সালে একাধিক মামলায় সাবেক শাসক বেন আলী ও তাঁর স্ত্রীকে বিচার করে যাবজ্জীবন, ৩৫ বছর এবং ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। কিরগিজস্তানের পলাতক রাষ্ট্রপ্রধান কুরমানবেক বাকিয়েভকে ২০১০ সালের অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ব্লেইস কম্পাওরে ২৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৪ সালে এক গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আইভরিকোস্টে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ২০২২ সালে দেশের আদালত তাঁকে তাঁর পূর্বসূরিকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ব্লেইস কম্পাওরে ইতিমধ্যে আইভরিকোস্টের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
চাদের প্রেসিডেন্ট হিনসে হাবরের বিচার তাঁর নিজ দেশে না হলেও যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই সেনেগালেই হয়েছে। নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের অব্যাহত চেষ্টার ফলে ২০১৩ সালে সেনেগালে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালে আফ্রিকান ইউনিয়ন–সমর্থিত সেনেগালের একটি বিশেষ আদালত তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং নির্যাতনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এই বিচার ও দণ্ড হচ্ছে প্রথম ঘটনা, যেখানে দেশের বা আঞ্চলিক সংগঠনের আদালতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত কোনো সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিচার হয়েছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে দেশের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগের বিচারে ২০১৯ সালে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তা ছাড়া ২০২৫ সালে আরেক মামলায় তাঁকে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক স্বৈরশাসকের নিজ দেশে তাঁর উপস্থিতিতে বিচারের ঘটনাও আছে। পূর্ব জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান এরিখ হোনেকারকে একীভূত জার্মানিতেই বিচার হয়েছে। ক্ষমতা থেকে পতনের পর ১৯৯১ সালে হোনেকারের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলে তিনি ডিসেম্বর মাসে মস্কোতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি চিলির দূতাবাসে আশ্রয় নেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তিনি চিলিতে যেতে চাইলেও চিলির সরকার তাতে রাজি হয়নি।
১৯৯২ সালের ২৯ জুলাই চিলির দূতাবাস থেকে তাঁকে জোর করে বিদায় করে দিয়ে বিমানে করে বার্লিনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিমানবন্দরে আটক হন। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয় এবং ১৯৯২ সালের নভেম্বরে তাঁর ও তাঁর সঙ্গে অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার শুরু হয়। ইতিমধ্যে এটা জানা যায় যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত এবং ছয় মাসের বেশি বাঁচবেন না। ফলে তাঁর আইনজীবীরা মানবিক বিবেচনায় তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। প্রাথমিকভাবে এ আবেদন নাকচ হওয়ার পর তা গৃহীত হয়। হোনেকার ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পেয়ে চিলিতে তাঁর পরিবারের কাছে যান এবং ১৯৯৪ সালের মে মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
নিজ দেশে বিচার ও দণ্ড দেওয়ার উদাহরণ হচ্ছে পেরুর শাসক ফুজিমোরি। চিলি থেকে ২০০৭ সালে প্রত্যর্পণ করা হলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। ২০০৯ সালে পেরুর আদালত তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে মানবিক বিবেচনায় পেরুর প্রেসিডেন্ট তাঁকে মুক্তি দিলেও আদালত ওই ক্ষমা বাতিল করে দিয়ে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পেরুর সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফুজিমোরি মারা যান।
পালিয়ে যাওয়ার পর নিজ দেশে ফেরত আসার ঘটনা খুব বেশি নেই। সাম্প্রতিক কালের উদাহরণ হচ্ছে শ্রীলঙ্কার গোতাবায়া রাজাপক্ষে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে যান, সেখান থেকে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে কিছুটা সময় থাকেন। মাত্র ৫৫ দিন পরই তিনি দেশে ফিরে আসেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাঁকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দাখিল করা হয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০১৯ সালে ইস্টারের সময় তিনটি চার্চে বোমা হামলা, যাতে ২৭০ জন মারা যান। অভিযোগ করা হয় যে তাঁর সরকারের সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং তিনি অবগত ছিলেন। জুন মাসে একটি আদালত তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহ। ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁকে হত্যাচেষ্টায় তিনি আহত হওয়ার পর সৌদি আরবে ‘চিকিৎসার জন্য’ যান। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টায় তিনি কয়েক মাস পর দেশে ফিরে আসেন। দেশের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
কিন্তু ২০১৪ সালের পর দেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলে সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং হুতিরা তাঁকে হত্যা করে।
স্বৈরশাসকদের জন্য এসবের কোনোটিই পূর্বনির্ধারিত ছিল না। এগুলো এভাবেই ঘটবে—এ ধরনের নিশ্চয়তার কথা বলারও সুযোগ ছিল না। তবে পলাতক স্বৈরাচারেরা একপর্যায়ে এসে এটা মেনে নিতে বাধ্য হন যে রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে তাঁরা অপসৃত হয়েছেন; এর ভিন্ন চেষ্টার পরিণতি যে ভালো হয় না, তারও উদাহরণ আছে।
আলী রীয়াজ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর
মতামত লেখকের নিজস্ব