ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফার তদন্ত চলমান। এই তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফদের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিষয়টি নতুন করে উসকে দিল দেশটির দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউন।
গত রোববার রেসিং দে কর্দোবার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে এক ভিন্নধর্মী জার্সি পরে মাঠে নামেন আলমিরান্তে ব্রাউনের ফুটবলাররা। তাদের চিরাচরিত হলুদ-কালো ডোরাকাটা পোশাকের পরিবর্তে নীলচে-সাদা রঙের বিশেষ জার্সি পরা ছিল, যার বুকের ওপর বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’ এছাড়া জার্সির পিঠে নম্বরের নিচে লিওনেল মেসির দুই আঙুল উঁচিয়ে আসমানের দিকে তাকানো সেই পরিচিত উদ্যাপনের ছবি আঁকা ছিল। উল্লেখ্য, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত।
ম্যাচের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই বিশেষ জার্সির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের পোস্টে লেখা ছিল, ‘মালভিনাসকে স্মরণ করে আগামীকাল আমরা একটা বিশেষ জার্সি পরব। আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত।’ ম্যাচ শেষে শুরুর একাদশের ছবি পোস্ট করে ক্লাবের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ওরা আর্জেন্টাইন!’
যুক্তরাজ্যের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের জেরে ফিফা যখন তদন্ত চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই এই বিশেষ জার্সির ঘটনা সামনে এল। এর আগেও একই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচের আগে একই স্লোগান লেখা ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল, যাতে ৯১০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।