ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের এজিএস ও শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। অভিযুক্তরা জানান, এজিএসের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেল তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করেছেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার বাসিন্দা অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী ফারহান ভূঁইয়া ও মো. আরমান হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। ফারহানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার বাবা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাটাইয়া ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং তার বড় ভাই মাওলানা দিদার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান। ফারহান নিজে নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং তার বন্ধু আরমানও একই এলাকার বাসিন্দা।

ফারহান ভূঁইয়া জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ২৬ জুলাই রাতে ঢাকায় আসেন এবং মামা ইব্রাহিম খলিলের রুমে ওঠেন। পরদিন সকালে ইব্রাহিম ক্লাসে চলে যাওয়ার পর তারা দুই বন্ধু বাইরে ঘোরাঘুরি শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবার কক্ষে ফিরে আসেন।

ফারহান ও আরমানের ভাষ্যমতে, গোসল শেষে তারা জানালার পাশে বসে মোবাইলে ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নাটক দেখছিলেন। এ সময় ইউসুফ আরেফিন রুমেল কক্ষে প্রবেশ করে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বেড নষ্ট করার অভিযোগ আনেন।

ফারহান অভিযোগ করেন, রুমেল ভাই তাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ স্বীকার করতে চাপ দেন। তিনি তাদের জামাকাপড় পরার সময় শিখিয়ে দেন—‘আমরা ভুল করেছি, শয়তানের ধোঁকায় পড়েছি’—এই কথাগুলো বলতে। এরপর তিনি তাদের না জানিয়ে সেই বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন।

আরমান হোসেন বলেন, তারা কোনো অনৈতিক কাজ করেননি। ভিডিও ধারণের কথা জিজ্ঞেস করলে রুমেল অস্বীকার করেন এবং বলেন যে এটা নিয়ে কিছু হবে না। পরে ডাক্তার দেখিয়ে তারা নোয়াখালী ফিরে আসেন।

ফারহানের বড় ভাই মাওলানা দিদার মাহবুব বলেন, ঘটনাটি তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। তিনি বলেন, "আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। আমার ছোট ভাই যদি সত্যিই দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে আমরা তা মেনে নেব।"

অভিযুক্ত আরমানের বাবা, সিএনজি অটোরিকশাচালক মিলন বলেন, "আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না, আমি তা বিশ্বাস করি না।"

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান জানান, ছুটির মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। মাদ্রাসা খোলার পর তারা বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে নিজস্ব ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেলকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।