ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের ফলে ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলেও নিজের দেশে সংকটে পড়েছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এতদিন স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেললেও এখন তাঁর সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন। কারণ, তাঁর গায়ে এখন ঝুলছে ‘বিদেশি’ ক্রিকেটারের তকমা।
উইজডেনের ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ পডকাস্টে কথা বলার সময় আমির নিজেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাতীয়তা পরিবর্তনের কারণে পিএসএলের আগামী আসরগুলোতে তিনি আর পাকিস্তান দলের স্থানীয় ক্রিকেটার ক্যাটাগরিতে খেলতে পারবেন না।
গত জুনে নটিংহামশায়ার যখন ২০২৬ ভাইটালিটি ব্লাস্টের জন্য আমিরের সঙ্গে চুক্তি করে, তখনই তাঁর ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। নটিংহামশায়ারের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কারণে কাউন্টি ক্রিকেটে ট্রেন্ট ব্রিজের হয়ে খেলার সময় তাঁকে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য করা হবে না। এই সুবিধার কারণেই তিনি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ পান এবং চলতি ২০২৬ মৌসুমে ‘দ্য হানড্রেড’-এ ডেভিড পেইনের বদলি হিসেবে ট্রেন্ট রকেটসে যোগ দেন।
তবে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সুবিধা পেলেও পিএসএলে চিত্রটি ভিন্ন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে পিএসএলের দ্বাদশ আসরে (পিএসএল ২০২৭) তাঁর নতুন নাগরিকত্বের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডি তাঁকে ৫ কোটি ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দলে নিয়েছিল। সেই আসরে নাসিম শাহ ও ড্যারিল মিচেলদের মতো তারকাদের পাশাপাশি রাওয়ালপিন্ডির অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন আমির।
সমস্যা তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টের চুক্তির নিয়মে। পিএসএল ২০২৬-এর নিলামে যেসব খেলোয়াড় কেনা হয়েছিল বা যাঁদের ধরে রাখা হয়েছিল, তাঁদের সবার সঙ্গে চুক্তি ছিল দুই বছরের, অর্থাৎ ২০২৬ ও ২০২৭ মৌসুমের জন্য। লিগের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দ্বাদশ আসরের আগে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড়কে ধরে রাখার সুযোগ পাবে, বাকিরা উঠবেন নিলামে। কিন্তু আমিরের ক্যাটাগরি বদলে যাওয়ায় রাওয়ালপিন্ডি কি তাঁকে আগের চুক্তির শর্তে ধরে রাখতে পারবে? যদি তিনি পাকিস্তানি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত না হয়ে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হন, তবে তাঁকে নিতে চাওয়া যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের নির্ধারিত বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা ব্যবহার করতে হবে। ফলে আমিরের এই পরিবর্তন আগামী মৌসুমের জন্য রাওয়ালপিন্ডি দলের ক্রিকেটার বাছাই এবং দল গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেনি।