মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গিতে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) আলজাফনি আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেগ্রি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান জানান, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া চারটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আলজাফনি বলেন, "লিঙ্গিতের এক বাড়িতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন"—একটি ফোন কলের মাধ্যমে এই খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এই সংঘর্ষে আরও এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যাকে চিকিৎসার জন্য রেম্বাউ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি একটি বাগানে কাজ করতেন এবং নিহতরা সবাই একই বাড়িতে বসবাস করতেন। আজ মঙ্গলবার ওই ব্যক্তিকে রিমান্ডের জন্য পোর্ট ডিকেসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।

ডিসিপি আলজাফনি জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজনের মরদেহ সুয়া মাঙ্গিস এস্টেটে এবং তৃতীয়জনের মরদেহ তাঁদের বাসার কাছে পাওয়া গেছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তের বিষয়ে আলজাফনি বলেন, “আমরা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত করছি। আশা করি, সাধারণ জনগণ এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ জনগণ কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য বা যাচাই ছাড়া কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন।” এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানায় জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসে আলজাফনির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের কারণে তিন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাটি কয়েকটি ভিন্ন স্থানে ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।