রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও তথ্য সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও তথ্য সুপারভাইজার নিয়োগে ন্যূনতম স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, যোগ্য অনেক আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে পক্ষপাতমূলকভাবে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রমের জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা ‘অনিয়ম মানি না, মানব না’, ‘দুর্নীতির বিচার চাই’—ইত্যাদি স্লোগান দেন। দ্রুত দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান লিমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জিয়াউল হুদা উজ্জ্বল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম মৃধা মুক্তার, সদস্য মিজানুর রহমান লাল্টু, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা হিমেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল হাসান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ সরদার, পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুক্তার মাহমুদ, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ছালেহা আক্তার বুলবুলি, পৌর মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদা আক্তার লিপিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ঘটনা প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।