বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করার পরও তীব্র সমালোচনা আর বিরোধিতার মুখে আছেন সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছেন আর্সেনালের সাবেক কোচ ও ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার। তাঁর কথা, বিতর্কিত এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত যে অত্যন্ত জরুরি ছিল, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আজ এক বিবৃতিতে নিজের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন ফরাসি এই ফুটবল ব্যক্তিত্ব।

.গদি বাঁচাতে ট্রাম্পের সাহায্য চান ইনফান্তিনো, হোয়াইট হাউসের অস্বীকার.

এক সপ্তাহ আগে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠন করে এর ২০ শতাংশ শেয়ার প্রাইভেট ইক্যুইটির কাছে বিক্রি করার ইনফান্তিনোর সেই বিতর্কিত পরিকল্পনার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানায় তিনটি মহাদেশীয় কনফেডারেশন। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা আরও এক ধাপ এগিয়ে হুমকি দেয়, প্রকল্পটি বাতিল না করা হলে তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে। প্রচণ্ড চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন ফিফা প্রধান।

.


এই ঘটনার জের ধরে ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কোরদেইরো ফিফা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ওয়েঙ্গার নিজেও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে তিনি এখন পর্যন্ত পদত্যাগ করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি যে এফএফই পরিকল্পনার ঘোর বিরোধী ছিলেন, তা পরিষ্কার করেছেন বিবৃতিতে। সঙ্গে বলেছেন, ফিফা সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ফুটবলের সেবায় নিয়োজিত থাকবে, এমনটাই তাঁর বিশ্বাস।

.ইনফান্তিনো থাকলে ফুটবল ‘শেষ’, বলছেন সাবেক আইওসি কর্মকর্তা.

বিবৃতিতে ওয়েঙ্গার বলেছেন, ‘ফিফার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমার পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ফিফায় আমি গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার দলের সঙ্গে মিলে আমি ফুটবলের ডেটা অ্যানালাইসিস, ফিফা অনলাইন ট্রেনিং সেন্টার, বিশ্বের ৬০টি দেশে তরুণদের শিক্ষার জন্য ৬০টি একাডেমি পরিচালনা এবং যুব প্রতিযোগিতা তদারকি করি। এ ছাড়া আমি আইএফএবির কারিগরি উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছি।’

.


পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না দাবি করে ওয়েঙ্গার বলেছেন, ‘এই কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই যুক্ত ছিলাম না। সংবাদমাধ্যমের খবর দেখেই প্রথম প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারি। এ রকম একটা প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তটি যে অত্যন্ত জরুরি ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ফিফা একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে একনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে ফুটবলকে সেবা দিয়ে যাবে।’

.ইনফান্তিনো কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন করতে পারবেন.

এর আগে গত শনিবার এফএফই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও উয়েফা এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা ইনফান্তিনোর ওপর পুরোপুরি ‘আস্থা হারিয়েছে’। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ফিফা সভাপতির ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইতিমধ্যে ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে।