কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে নওগাঁর মান্দায় হাবিবুর রহমান নামে এক প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এই উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজমসহ ইউপি সদস্যদের মধ্যস্থতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে অন্তত অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও সেগুলোর সংস্কার করা হয়নি। ছাউনির টিন ফুটো থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দরজা-জানালা না থাকায় সন্ধ্যার পর শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাদকের আড্ডা বসে। মাদকসেবীদের কারণে চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ নোংরা হয়ে যাওয়ায় পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পরিবেশ। প্রধান শিক্ষক এসব সমস্যার সমাধান না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ।

শিক্ষার্থীরা জানান, শ্রেণিকক্ষ নোংরা থাকায় সেখানে বসে ক্লাস করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদ করায় সোমবার (৩ আগস্ট) ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ কুমার ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলামকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। একই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকে আবারও মারধর করা হয়। এতে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানান, "প্রধান শিক্ষক আমাদের অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ছাড়া বিনা কারণে আমাদের মারধরও করা হয়। আজও রিফাত ও আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়েছে। তাই আমরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করছি।"

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, "শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ সুসংহত করার দাবি তোলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দূরত্বের সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। শিক্ষকদের সঙ্গেও তিনি খারাপ আচরণ করেন। এসব কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র চলেও গেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।"

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।