আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও খেলাটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নারাজ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী তারকা বেন স্টোকস। ব্যাট-বল তুলে রাখার পর কোচিংয়ের আঙিনায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী সাবেক এই অধিনায়ক। সুযোগ মিললে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালনের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে ৩৫ বছর বয়সী স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে ডারহামের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনি এখনো সক্রিয়। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার আগেই প্রস্তুতি হিসেবে তৃতীয় স্তরের কোচিং কোর্স শুরু করেছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
'ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট' পডকাস্টে কথা বলার সময় স্টোকস বলেন, ‘আমি কোচ হতে চাই। ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে ভবিষ্যতে এটিই করতে চাই। একদিন ইংল্যান্ডের কোচ হতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। তবে সেটি হবে কি না, আমার কোনো ধারণা নেই।’
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করে রাখতে চান স্টোকস। এতে অবসর পরবর্তী সময়ে সরাসরি কোচিংয়ে আসা অথবা কিছুটা বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে তার সামনে।
এদিকে ২০২৭ সালের অ্যাশেজে অবসর ভেঙে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। সাবেক সতীর্থ জস বাটলার তার অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কি না জানতে চাইলে স্টোকসের উত্তর ছিল, ‘নিশ্চিতভাবেই।’
ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্টোকস। তার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি হ্যারি ব্রুককে দেখতে চেয়েছিলেন। ব্রুক বর্তমানে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দুই দলের অধিনায়ক এবং স্টোকসের অধীনে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাকে দায়িত্ব না দেওয়ায় স্টোকস বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন কেউ ভালো অধিনায়ক বা নেতা হতে পারবে, তাহলে তাকে দায়িত্ব দিয়ে দিন। সে সহ-অধিনায়ক ছিল। অথচ অধিনায়ক না থাকলেও তাকে নেতৃত্ব দেওয়া হলো না। এতে তার কাছে কী বার্তা গেল?’
ব্রুকের পরিবর্তে জো রুটকে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট অধিনায়ক করেছে ইংল্যান্ড। পাশাপাশি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্তরসূরি হিসেবে প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন স্টিফেন ফ্লেমিং। রুটের সাফল্য কামনা করলেও নেতৃত্বের চাপ তার ওপর আবারও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্টোকস।
সাবেক এই অধিনায়ক জানান, রুটের আগের মেয়াদে অধিনায়কত্বকালীন চাপের বিষয়টি তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। তবে ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে রুটের সমন্বয় ভালো হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।