ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলে এক বন্যপ্রাণীর আকস্মিক আক্রমণে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার সহোদর, দোশিয়া ও বুড়িপুকুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই রহস্যময় হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষ করে কেউ বাড়ির আঙিনায়, আবার কেউ বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি বন্যপ্রাণী হঠাৎ লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। প্রাণীটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে গিয়ে একের পর এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। শুধু মানুষই নয়, প্রাণীটি কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে শিশু এবং গৃহপালিত ছাগলের ওপরও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে বুড়িপুকুর এলাকার ময়রমা, জমেলা, আরিফ, মশিউর ও মকবুলের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বুড়িপুকুর গ্রামের আল মামুন জানান, "প্রাণীটি অত্যন্ত হিংস্র আচরণ করছিল। মানুষ দেখলেই তেড়ে গিয়ে কামড়ে দিচ্ছিল। একপর্যায়ে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া করলে প্রাণীটি পালিয়ে যায়।"
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি মাত্র প্রাণীই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এই হামলা চালিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রাণীটিকে হায়না বলে দাবি করছেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম বলেন, "আহতদের ক্ষতস্থান পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হায়নাজাতীয় কোনো বন্যপ্রাণীর কামড় হতে পারে। আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অ্যান্টি-র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনও প্রয়োগ করা হয়েছে।"
এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যপ্রাণীটি পুনরায় আক্রমণ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই এখন ঘরের বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না এবং সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।