দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আগামী বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র যুদ্ধাহত পরিবারগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শন করতে পারবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’-কে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। এই জাদুঘরে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলের বিভিন্ন দমন-পীড়নের দলিল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, গবেষক ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এখানে গাইডেড ট্যুর এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনের মোট আয়তন ১৭ দশমিক ৬৮ একর। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এটিকে জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জাদুঘরটি নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল। এর মধ্যে মোট খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।