পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাবর আজম ও আব্দুল্লাহ শফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে ইজাজ আহমেদ ও ইনজামাম–উল–হক ব্যাট করছেন!’ পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের সোনালি যুগের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই জুটির সৌজন্যে ২ উইকেটে ২৬৬ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে সফরকারী দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা এখন মাত্র ৭৮ রানে পিছিয়ে।
চলতি সিরিজে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়া পাকিস্তানের জন্য এই দিনটি ছিল স্বস্তির। ত্রিনিদাদে প্রথম টেস্টে ৯০ রানের হারের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। তবে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেই চিত্র বদলে গেছে। শেষ সেশনের শেষভাগে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি (১০৭*) হাঁকিয়েছেন আব্দুল্লাহ শফিক। ২০২৪ সালের পর টেস্টে এটিই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে ৮৬ রানে অপরাজিত বাবর আজম। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রানের ইনিংসের পর টেস্টে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
প্রথম দিনের ৫ উইকেটে ২৩৯ রানের পর জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজের ফিফটিতে ভর করে আরও ১০৫ রান যোগ করে মোট ৩৪৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৪ রানে ওপেনার ইমাম-উল-হককে (১৪) হারায় পাকিস্তান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে আব্দুল্লাহ ও আজান আওয়াইস ৬৪ রানের জুটি গড়েন। ৫৫ রানে আওয়াইস আউট হলে শুরু হয় বাবর ও আব্দুল্লাহর নান্দনিক জুটি। বাবর ১০টি চার ও ১টি ছক্কা এবং আব্দুল্লাহ ১০টি চার ও ২টি ছক্কা মেরে মাঠ শাসন করেন। ২০০৬ সালে ওভাল টেস্টের পর এশিয়ার বাইরে তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানের এটিই প্রথম ন্যূনতম দেড় শ রানের জুটি।
স্কোরবোর্ড:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৪৪ (গ্রিভস ৭৩, চেজ ৭০, কিং ৪৬, হোপ ২৯; সাজিদ ৪/৮৫, উবাইদ ২/৬৬, আলী ২/৬৭, উসমান ২/৮০)।
পাকিস্তান: ২৬৬/২ (আব্দুল্লাহ ১০৭*, বাবর ৮৬*, আওয়াইস ৫৫, ইমাম ১৪; শামার ১/৫৮, ওয়ারিক্যান ১/৭৫)।
— দ্বিতীয় দিন শেষে।