নিজেকে মানুষ হিসেবে কল্পনা করার অদ্ভুত এক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হয় এক মশার স্বীকারোক্তি। তার মতে, মানুষের শারীরিক গঠন অত্যন্ত অদ্ভুত। দুই পা আর দুটি হাত নিয়ে মানুষের অস্তিত্ব তাকে অবাক করে, বিশেষ করে ডানার অভাব তাকে ভাবিয়ে তোলে। সে প্রশ্ন করে, "নেই বলেই কি আপনাদের এত রাগ আমাদের ওপর?"

নিজের শারীরিক ক্ষতির কথা স্মরণ করে মশাটি জানায়, সে এখন পাঁচপেয়ে। মূলত ছয় পা থাকলেও এক অফিসফেরত মানুষের গালে বসে রক্ত খাওয়ার সময় লোকটির স্ত্রীর হাতের এক চড় খেয়ে সে একটি পা হারিয়েছে। তার অভিযোগ, "আমার ধারণা, লোকটার গালে চড় বসাবার মোক্ষম সুযোগ পেয়েই মেরেছে। অথচ এই দাম্পত্য কলহে আমাকে হারাতে হলো একটা পা। এ–ও কি মেনে নেওয়া যায়?"

মানুষের প্রতি তার ক্ষোভের কারণ আরও অনেক। সে প্রশ্ন তোলে, হাসপাতালে টিউব ভর্তি রক্ত দেওয়ার কথা বলে সামান্য রক্ত দিতে কেন এত আপত্তি? এছাড়া কয়েল ও ইলেকট্রিক ব্যাটের মাধ্যমে মশামুক্ত করার প্রচেষ্টাকে সে তামাশা হিসেবে দেখে। নিজের পরিবারের সদস্যদের করুণ মৃত্যুর কথা মনে করে সে বলে, "বাপের, দাদার, ভাইয়ের, বোনের আর আমার ঠ্যাঙের... সবার বদলাই আমি নেব!"

প্রতিশোধের নেশায় মশাটি এখন আরও ভয়ঙ্কর। সে দাবি করে, পানিজমা টবে তাদের বিখ্যাত ল্যাবরেটরিতে তৈরি ডেঙ্গুর সিরাম সে নিজের শরীরে প্রয়োগ করেছে। তার ভাষায়, "সেখান থেকে আমি আমার শরীরে ডেঙ্গুর সিরাম চালান করে নিয়েছি৷ কী যে চনমনে লাগে নিজেকে আজকাল!" সে হুমকি দেয়, একটি কামড়েই মানুষকে জ্বরে ফেলে দিয়ে শরীর, চোখ ও মাথাব্যথার যন্ত্রণায় ডুবিয়ে দেবে সে।

তবে এই ক্ষোভের পাশাপাশি সে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে। টব, এসি বা ড্রেনে পানি জমিয়ে বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য সে ধন্যবাদ জানায়। সিটি করপোরেশনের কেরোসিনের ধোঁয়ার আবেশে সে যখন মানুষকে কামড়ায়, তখন এক অদ্ভুত নেশায় আচ্ছন্ন হয়। সেই ঘোরের মধ্যে সে বারবার একই গান গায় এবং একই কথা বলে। শেষে এক অদ্ভুত অনুশোচনার সুরে সে বলে, "মানুষকে ধরে বলতে ইচ্ছা করে, ভাই, আমি আপনাদের ডেঙ্গু দিচ্ছি, আমাকে ক্ষমা করবেন।"