রস+আলোর বিভাগীয় সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই লেখক এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন। পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের ধারণা, দেশের যেকোনো সমস্যায় তিনি কিছু লিখলেই সমাধান হয়ে যাবে। যদিও তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, তার লেখায় সমস্যার সমাধান হয় না, বরং অনেক সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং মানুষ মনে কষ্ট পায়। তবে কেউ তার কথা বিশ্বাস করতে রাজি নয়। লেখকের আক্ষেপ, ঘরের মানুষই যখন বিশ্বাস করে না, বাইরের মানুষ করবে কীভাবে!
সম্প্রতি এক ছোট ভাই তাকে অনুরোধ করেন, বর্তমান সময়ে বিদ্যুতের যে অস্বাভাবিক বিল আসছে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে কিছু লিখতে। লেখক তাকে পাল্টা প্রস্তাব দেন যে, সে যদি মজার ছলে কিছু লেখে, তবে রস+আলোতে বড় কার্টুন দিয়ে তা ছাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে পরিচিতি করানো হবে। কিন্তু ছোট ভাই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গম্ভীর মুখে বলেন, “আপনাকে আপন ভাইয়ের মতো মনে করছিলাম। আমাকে জেলে ঢোকানোর এমন বুদ্ধি আপনি দিতে পারলেন?”
লেখক নিজেই এই অস্বাভাবিক বা 'ভুতুড়ে' কারেন্ট বিলের শিকার। অনেকে এই বিষয়ে প্রতিবাদী লেখা লিখলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তিনি নিজেই একবার অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। একদিন বিদ্যুৎ অফিসের একদল লোক তার এলাকায় এসে অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে মিটার পরীক্ষা করতে থাকেন। লেখকের ভাষায়, “এত মনোযোগ কেউ তার প্রথম প্রেমেও দেয় না।”
অভিযোগ জানাতে গেলে দেখা যায়, ওই দলের একজন সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা এবং লেখকের পরিচিত। অভিযোগ করার সুযোগ পাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, “ভাই, আপনের তো চার গুণ বেশি বিল আসছে, আমার সম্বন্ধীর বাসায় আসছে ছয় গুণ বেশি। এই সব নিয়ে কিছু লেখেন ভাই, এইভাবে তো চলা যায় না…”
এই পরিস্থিতির পর লেখক উপলব্ধি করেন, সম্ভবত তাকে চাকরিটিই ছেড়ে দিতে হবে।