নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুট করা ৩৯ হাজার টাকা এবং একটি লোহার স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১টার দিকে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাত তিনটার দিকে শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়িতে এক সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়ির কলাপসিবল গেট ও মূল দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের গলার চেইন, লকেট ও আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ফরহাদ এই ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।

পুলিশ জানায়, গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকা থেকে বাকের হোসেন ওরফে অনুকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮) এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) ও মহিবুল ইসলাম আসিফকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সাইদুল হকের কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা ও একটি লোহার স্টিক জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অর্থ ডাকাতি করা টাকারই অংশ। এছাড়া প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া বাকের হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, ডাকাত দলে মোট আটজন সদস্য ছিলেন। ডাকাতির আগে তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করেন এবং পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতি করেন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।