বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছেন না জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার পুনর্নির্বাচনের পথ থেকে একে একে সরে যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যা ফিফা সভাপতির চেয়ার ধরে রাখার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ইনফান্তিনোর জন্য সর্বশেষ বড় ধাক্কাটি এসেছে ইংল্যান্ড থেকে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ইনফান্তিনোকে আর সমর্থন করছে না বলে ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। উল্লেখ্য, এর আগে তার চতুর্থ মেয়াদের পক্ষে সমর্থনপত্র দিয়েছিল ইংলিশ এফএ।
ইংল্যান্ডের আগে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ওয়েলস ও সার্বিয়া। গত সপ্তাহে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড। অন্যদিকে, আগে থেকেই সমর্থনপত্র না দেওয়া সুইডেন এবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী মার্চের নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার বিরোধিতা করবে।
ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, "সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে ফিফার সুশাসন, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুতর ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।"
তাদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হয়ে ইনফান্তিনো নেতৃত্বে থাকার আস্থা হারিয়েছেন।
সার্বিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও প্রায় একই অবস্থান নিয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এবং তা সামলানোর প্রক্রিয়া ফিফা ও সংস্থাটির সভাপতির বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাই সমর্থন প্রত্যাহারই তাদের কাছে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
তবে ইনফান্তিনোর নিজ দেশ সুইজারল্যান্ড এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা ফিফা সভাপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চায় এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাবে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, আগামী কয়েক দিনে ইউরোপের আরও কয়েকটি ফেডারেশন ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিতে পারে। এই উদ্যোগকে তার বিরুদ্ধে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক অনাস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীদের লক্ষ্য চাপ বাড়িয়ে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা, যদিও এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হতে পারে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফ ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সদস্য ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনপত্র প্রত্যাহার করেনি। ফলে ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর অবস্থান এই সংকটের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর মধ্যেই উয়েফা ইনফান্তিনোর ওপর আইনি চাপ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির আইনজীবীরা বিতর্কিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সব নথি শনাক্ত ও সংরক্ষণ করতে ইনফান্তিনোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছেন। এই তালিকায় ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও রয়েছেন। প্রকল্পটি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা, সালিসি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে উয়েফা।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করে নিজের পদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন ইনফান্তিনো—এমন খবর অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হলেও, সেই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ইনফান্তিনোর চেয়ার বাঁচানোর লড়াই এখনো অব্যাহত।