চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, গালিগালাজ এবং মারমুখী আচরণের অভিযোগ তুলেছে প্রশাসন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুল কাদের।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) কার্পাসডাঙ্গা বাজারে ওই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অনুমোদনহীন ও স্যাম্পল ওষুধ বিক্রি এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার সংরক্ষণে অনিয়ম ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী তিনটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম বলেন, “আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানা করা হচ্ছিল। এ সময় আব্দুল কাদের ঘটনাস্থলে এসে জনসম্মুখে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং মারমুখী ভঙ্গিতে কথা বলেন। এমনকি তিনি মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন, এতে সরকারি দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। অভিযান চলাকালে কেউ এসে মব সৃষ্টি করবে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করবে কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা দেবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন, “এসিল্যান্ডের সঙ্গে কোনো মারমুখী বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি। সামান্য কিছু বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছে মাত্র।”

এই ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম এ তালহা জানান, তিনি বিস্তারিত এখনো জানেন না। তবে তিনি বলেন, “কোনো নেতাকর্মী যদি এমন আচরণ করে থাকেন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক, কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।”