ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে বিদায় নিলেও মরিসিও পচেত্তিনোর ওপর আস্থা রাখল যুক্তরাষ্ট্র। বেলজিয়ামের কাছে বড় হারের পরও আর্জেন্টাইন এই কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়ে গেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সোমবার পচেত্তিনোর সঙ্গে নতুন চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ছেলেদের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছেন টটেনহাম ও চেলসির সাবেক এই কোচ। নতুন চুক্তির আওতায় পচেত্তিনোর দায়িত্ব কেবল জাতীয় দলের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার কোচিং দল যুক্তরাষ্ট্রের বয়সভিত্তিক জাতীয় দল, খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া, কোচদের শিক্ষা, পেশাদার লিগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং ফুটবলের অন্যান্য কারিগরি বিষয়েও পরামর্শ প্রদান করবে।

পচেত্তিনো জানিয়েছেন, গত দুই বছরে কাজ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে আরও বড় কিছু করার সম্ভাবনা দেখেছেন তিনি। জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচ তৈরির পথেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখতে চান ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ।

২০২৬ বিশ্বকাপে পচেত্তিনোর অধীনে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিকেরা। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের এটিই ছিল প্রথম নকআউট ম্যাচ জয়। তবে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। বিশ্বকাপের পাঁচটি ম্যাচেই গোল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে চার ম্যাচে তারা অন্তত দুটি করে গোল করে। একটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েন পচেত্তিনো।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দলের ভেতরে তৈরি হওয়া পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক আস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল। ফেডারেশন সভাপতি সিন্ডি পারলো কোনের মতে, পচেত্তিনোর অধীনে খেলোয়াড়েরা দল, পরিকল্পনা ও একে অন্যের ওপর বিশ্বাস করতে শিখেছেন। এই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চায় ফেডারেশন।

নতুন চুক্তির ফলে পচেত্তিনো এখন একটি পূর্ণ বিশ্বকাপ চক্রের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৭ ও ২০২৯ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগ এবং গোল্ডকাপের মাধ্যমে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য দল প্রস্তুত করার সুযোগ থাকবে তার। পাশাপাশি ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিকের কথা মাথায় রেখে বয়সভিত্তিক দলগুলোর উন্নয়নেও তার কোচিং দলের ভূমিকা থাকবে।

এর আগে টটেনহামকে ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তুলেছিলেন পচেত্তিনো। এছাড়া প্যারিস সেন্ট জার্মেই ও চেলসির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে ফেরার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রেই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।