গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের এক সহ-সভাপতিসহ আরও ৪১ জন নেতাকর্মী দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দেন। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ।

সংবাদ সম্মেলনে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান কবির মুন্সী একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা ৪০ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, "দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও আজ থেকে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা নেতারা দলের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না।"

তিনি আরও জানান, তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরাও দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারী এই ৪১ জনের তালিকায় রয়েছেন মফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম সাবু, আবুজারা কাজী, কামরুল মুন্সি, রন্তন শেখ, মানিক মুন্সি, সজিব মুন্সি, মুজাফর হোসেন, আসাদুজ্জামান, রাকিব শেখ, বদ্দীন শেখ, আবুবকর মুন্সি, আজিবার শেখ, মো. বাদল শেখ, রওশন আলী, রিপন শেখ, আ. হান্নান কাজী, আব্দুল হাই শেখ, জিন্নাত শেখ, আনিচ শেখ, জাকের আলী, তৈয়াবুর সরদার, সহীদ শেখ, আস্বাস আলী, রুহুল আমীন, টিটুল মুন্সি, সলেমান ফকির, ফিরোজ ফকির, লায়েক উদ্দিন, আলামিন মুন্সি, কাবুল হোসেন, মনির মুন্সী, অহেদুজ্জামান, ফরিদ শেখ, ওহিদ কাজী, রাঙ্গু, আলাল মুন্সি, আবুল হাসান ঝন্টু, আজমল ইসলাম, রুকু মিয়া ও সাখায়েত মিয়া।

এর আগে রোববার মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অন্তত ৫১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। টানা দুই দিনে মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর এই পদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।