কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় রাতের আঁধারে এক নার্সারিতে হামলা চালিয়ে পাঁচ শতাধিক ফলজ চারা গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন নার্সারি স্বত্বাধিকারী ও প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান।
সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের কাঁছিয়া পুকুরিয়া গ্রামের ‘মুজিবনগর ওমর নগর নার্সারি’তে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুশ্চি বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান এ বিষয়ে লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে প্রায় দেড় বছর আগে ৩০ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল ও সবজির চারা উৎপাদন এবং কলম তৈরির উদ্দেশ্যে এই নার্সারিটি গড়ে তোলেন মিজানুর রহমান। সোমবার সকালে নার্সারিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে অধিকাংশ চারা গাছের মাঝামাঝি অংশ অথবা গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উন্নত জাতের আম, মাল্টা, পেঁপে, জলপাই, কলা ও লটকনসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের শত শত চারা সম্পূর্ণ নষ্ট করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান বলেন, "প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই নার্সারি গড়ে তুলেছিলাম। অনেক কষ্ট করে চারাগুলো বড় করেছি। সকালে এসে দেখি প্রায় ৫ শতাধিক চারা কেটে নষ্ট করা হয়েছে। এতে আমার ৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়ে গেল।"
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও জানান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও চার সন্তান নিয়ে তার সংসার এই নার্সারির ওপরই নির্ভরশীল ছিল। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা না থাকলেও এর আগে তার ফিসারিতে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছিল এবং নার্সারির ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান মিন্টু বলেন, "এর আগেও এই নার্সারিতে দুবার নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। যারা এমন বর্বর কাজ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।"
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।