বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সম্পদের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিজের পদ রক্ষায় এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন তিনি। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। আলোচনার আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ফুটবলের ভূমিকা তুলে ধরার কথা থাকলেও, সূত্রগুলোর দাবি, ইনফান্তিনোর মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের পদ রক্ষায় প্রভাবশালী মিত্র খুঁজে বের করা। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারের পর ফিফা সভাপতি নিজেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন মনে করছেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক পোস্ট আরও উল্লেখ করেছে, গত শুক্রবার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেছেন ইনফান্তিনো। তবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।
অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, রুবিওর সঙ্গে ইনফান্তিনোর কোনো নির্ধারিত আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এ বিষয়ে ফিফাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে করা দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ফিফার সম্প্রচার, পৃষ্ঠপোষকতা, লাইসেন্স ও টিকিট বিক্রিসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। জশ কুশনার পরিচালিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে এর ২০ শতাংশ মালিকানা নিতে পারত।
তবে পরিকল্পনাটি গোপনে এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ফিফার ভেতরে ও বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনার পর ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে ইনফান্তিনোর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারও ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমান সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পাশে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।