আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কথা গোপন করে উচ্ছেদ অভিযানে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করায় খাগড়াছড়ি জেলা ইটভাটা মালিক সমিতিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে ইটভাটা মালিক সমিতির পক্ষে রিটটি আর না চালানোর আবেদন জানানো হলে এ-সংক্রান্ত রুলটি খারিজ (ডিসচার্জ) করে দেওয়া হয়। আদালতের এই আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সব বিবাদীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী পারভেজ হোসেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি জেলার ১৯টি ইটভাটার মালিকদের পক্ষে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি একটি রিট আবেদন করেছিল। গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে উচ্ছেদ কার্যক্রমে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পরিবেশসচিবের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ওই নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেন।
এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মুক্তকণ্ঠকে জানান, "আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও গত ৬ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি হাইকোর্টে আবারও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনের শুনানির সময় আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল রোববার তিনি তা হাইকোর্টকে অবহিত করেন।"
আজ শুনানির সময় রিটকারীর আইনজীবী পারভেজ হোসেন আদালতকে জানান যে, তথ্য গোপনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না এবং তিনি আর মামলাটি পরিচালনা করতে চান না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খাগড়াছড়ি জেলা ইটভাটা মালিক সমিতিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং রুল পরিচালনা না করার আবেদনের ভিত্তিতে পূর্বের রুলটি খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে জনস্বার্থে ২০২২ সালে এইচআরপিবির পক্ষে একটি রিট করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ পার্বত্য তিন জেলার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।