বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে থাকে ভবদহ অঞ্চলে। এর ফলে ফসল হারান কৃষক, ঘের হারান মৎস্যচাষি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের এই দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (৩ আগস্ট) টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়ন এবং নদী-খাল পুনঃখননের দাবিতে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হাজারো ভুক্তভোগীর বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ কালেক্টরেট চত্বরে জড়ো হন। হাতে লাঙল, কাস্তে, শাপলা ও জলাবদ্ধতার প্রতীকী উপকরণ নিয়ে তারা মিছিল করেন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতি, প্রকল্পনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার কারণেই ভবদহের জলাবদ্ধতা বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি অনিল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি রাশেদ খান, কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, বাসন্তী মণ্ডল, শেখর বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, সাধন বিশ্বাস ও শিবপদ বিশ্বাসসহ ভুক্তভোগী প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, ভবদহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিবছর অর্ধেকেরও বেশি সময় পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। এতে হাজার হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে, মাছের ঘের ভেসে যায় এবং বসতবাড়ি ও সড়ক ডুবে থাকে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ সমাধানের নামে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও দুর্ভোগ কমছে না বলে তারা দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে সব নদী ও খাল পুনঃখনন, আমডাঙা খালের দ্রুত সংস্কার, খর্নিয়া সেতুর পাশের আড়বাঁধসহ পানিপ্রবাহের সব প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং বিলে বিলে কার্যকর টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থের কারণেই ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, "ভবদহবাসীর দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। সরকার খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তিনি টিআরএম বাস্তবায়নের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন।