কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ মিটার বা ২২ গজের একটি ছোট রেল টানেল সড়ক। সামান্য এই পথটুকু পার হতে সাধারণ মানুষকে ব্যয় করতে হচ্ছে আধা ঘণ্টারও বেশি সময়। এই ভোগান্তি এড়াতে অনেকে এখন কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলওয়ে টানেলের নিচের সড়কটি হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এই পানি শুকাতে ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগে, যার ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই জলাবদ্ধতার কারণে স্থবির হয়ে থাকে দুই ইউনিয়নের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
এ পথে নিয়মিত যাতায়াত করা শিক্ষার্থী ফারদিন বলেন, "আগে সাইকেলে স্কুলে যেতাম। এখন রাস্তা পানিতে ডুবে থাকায় হেঁটে যেতে হয়। কাদাপানিতে জামাকাপড় নোংরা হয়, খুব কষ্ট হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন মেজর জানান, বৃষ্টি হলেই আট-দশ মাস হাঁটু পানি জমে থাকে। যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কিন্তু বছরের পর বছর এই দৃশ্য বদলায়নি।
অন্যদিকে, কয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মাত্র ২২ গজের একটি টানেলের জন্য আজ দুটি ইউনিয়নের এক লাখ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। বছরের পর বছর এই অবহেলা চললেও এলজিইডি বা প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আশ্বাস ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের প্রতিদিন এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান না হলে কয়া ও নন্দলালপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।"
কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জানান, বারবার প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। এই প্রধান যাতায়াতের রাস্তার কারণে ইউনিয়নের ৭০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
তদন্ত করে জানা গেছে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং টানেলের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি পাইপের মাধ্যমে পানি বের হতে পারলেও সেটি এখন অকেজো। সম্প্রতি এলজিইডি সড়কটির কার্পেটিং তুলে আরসিসি ঢালাই করলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, আগে একটি পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হলেও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে দুটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এই বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, প্রকৌশলীদের মতামত নিয়ে শিগগিরই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তা সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।