চলতি শিক্ষাবর্ষেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। গত বছরের নিয়মটি এবারও বজায় রাখার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, "গতবারের মতো প্রাপ্ত ফল বা নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম রেখে আমরা নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে নীতিমালার খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ ভর্তি নীতিমালা জারি করবে।"
ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "অনলাইনে আবেদনের সূচনা, ফলাফল প্রকাশসহ ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় সূচি নির্ধারণের জন্য আমরা এখনও বৈঠকে বসিনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।"
উল্লেখ্য, আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এর আগে গত ২৭ জুলাই (সোমবার) বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, "সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান, কেন্দ্র সচিবসহ সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ফল পাওয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।"
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হয়। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা ২০ মে এবং মাদ্রাসা (দাখিল) ও কারিগরি বোর্ডের (ভোকেশনাল) লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।