নওগাঁর বদলগাছীতে জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে xảyত সংঘর্ষে হাসান রমন নামে এক যুবদল নেতার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ওই যুবদল নেতার মা-ও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে মা ও ছেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানা গেছে।
গতকাল রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত হাসান রমন ওই গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে এবং মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার স্ত্রী আমেনা বেগম একই ওয়ার্ডের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে জমির সীমানা বা আইল কাটা নিয়ে হাসান রমনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাসানকে লক্ষ্য করে কোপ দেন। এতে হাসানের বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে তার মা বিউটি বেগম এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার বাদী ও আহত যুবদল নেতার বাবা দুদু মিয়া বলেন, "সামান্য জমির আইল নিয়ে ঝগড়ার জেরে মিজানুর ও তার স্ত্রী আমার ছেলের ওপর হাসুয়া নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আমার স্ত্রীও জখম হয়েছেন। আমরা এ হামলার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, "অভিযুক্তরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিহিংসার জেরেই এ হামলা চালানো হয়েছে। আমরা অপরাধীদের দ্রুত এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান দাবি করেন, "হাসান আমার জমির বড় আইল কেটে ফেলেছিল। এটি নিয়ে কথা কাটাকাটির পর তারা ৬-৭ জন মিলে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমার হাতে ঘাস কাটার হাসুয়া ছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত হাসানের কব্জিতে কোপ লাগে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।