সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ভারত সীমান্ত লাগোয়া মিনাটিলা এলাকাটি তার অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শ্রাবণের বিকেলে 이곳ের দৃশ্য যেন এক জীবন্ত ছবি—ওপারে সবুজে ঢাকা সারি সারি পাহাড়, আর আকাশে জমে থাকা ঘন কালো মেঘ যেন মাঠের ঘাস ছুঁয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

বাংলাদেশ অংশের এই ছোট সবুজ মাঠে রাখালরা গরু-মহিষ চরাচ্ছেন, আর পাশেই বয়ে চলা নদীতে জলকেলিতে মেতেছে সাদা ও ছাইরঙা হাঁসেরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জায়গার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটকদের কাছে এটি ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ এবং স্থানীয়দের কাছে ‘ভাইরাল মাঠ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

মিনাটিলায় পৌঁছানো বেশ সহজ। সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকায় গিয়ে ডান দিকের একটি কাঁচা রাস্তা ধরে দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঝিঙ্গাবাড়ি গ্রাম হয়ে এখানে আসা যায়। গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে কয়েক শ গজ দূরেই অবস্থিত ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্যরেখা। এই এলাকার বাম পাশে বয়ে চলেছে রাংপানি নদ, আর ডান দিকে রয়েছে গ্রাম, সবুজ গাছপালা ও ধানক্ষেত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্ত পিলারের ওপারে ভারতীয় অংশে সুউচ্চ পাহাড়গুলো প্রাকৃতিক বেষ্টনীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, যার পাদদেশে রয়েছে তারকাঁটার বেড়া। ভারতের ছাগলখাউরি নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করে রাংপানি নাম ধারণ করেছে। এই নদে বারকি নৌকায় বালু পরিবহন করছেন শ্রমিকেরা। ভারত অংশের শেষ সীমান্তে মিকিরবস্তি গ্রামের পাশেই ছাগলখাউরি নদ পারাপারের জন্য একটি ঝুলন্ত সেতু রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মিনাটিলা অংশের মাঠে দুটি ফুটবল বার এবং নদের তীরে রোপণ করা গাছের চারা দেখা গেছে। মাঠের এক কোণে বাঁশ-কাঠের অস্থায়ী বেঞ্চে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন কিছু কিশোর-যুবক। ওপারে তারকাঁটা বেড়ার পাশের সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন কয়েকজন মানুষ।

আসামপাড়া গ্রামের ক্রীড়া সংগঠক শাহ আবদুল জব্বার বলেন, “আগে এখানে স্থানীয় মানুষ ছাড়া কেউ আসত না। এখন প্রতি ছুটির দিনে আশপাশের জেলার অনেকেই ছবি তুলতে আসেন। এখানে সৌন্দর্য আছে, কিন্তু শৌচাগার, রাস্তাসহ পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এখানে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, “জায়গাটি এখনো পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়। তবে এরপরও অনেকেই মিনাটিলায় বেড়াতে যান। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কিছুটা বাধ্যবাধকতা আছে; তবে জায়গাটিকে কীভাবে পর্যটকবান্ধব করা যায়, এর পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।”