বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দাপটের সাথে বোলিং করলেও ইংল্যান্ডের হান্ড্রেড বল ক্রিকেটে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পাননি আফগান তারকা রশিদ খান। তবে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। রশিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করে ম্যানচেস্টারকে ৪৫ রানে পরাজিত করেছে এমআই লন্ডন।

লন্ডনের দ্য ওভালে টস জিতে আগে ব্যাট করে ১০০ বলে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে এমআই লন্ডন। চলতি আসরে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দলের বড় পুঁজি গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উইল জ্যাকস ও নিকোলাস পুরান। জ্যাকস ৩১ বলে ৬২ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে একের পর এক বাউন্ডারি ছিল। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরান ২৮ বলে ৫৪ রান করেন। শেষদিকে স্যাম কারান ১১ বলে ২৩ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন।

১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল ম্যানচেস্টারের। প্রথম ৩০ বলে উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৫৯ রান সংগ্রহ করে। ২৬ বলে ফিফটি করে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন এইডেন মার্করাম। তবে এরপরই শুরু হয় রশিদের ঘূর্ণিজাদু।

টিম সাইফার্টকে বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন রশিদ। এরপর জস বাটলারকে ফিরিয়ে ম্যানচেস্টারের ব্যাটিং লাইনে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। রশিদের শিকার হন হাইনরিখ ক্লাসেন, টম মুরস ও লিয়াম ডসনও। মাত্র ৩৫ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ম্যানচেস্টার। রশিদের সামনে তাদের মিডল অর্ডারের কোনো ব্যাটারই স্বস্তিতে খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৯৫ বলে ১৩৮ রানে অলআউট হয় দলটি।

ম্যানচেস্টারের পক্ষে মার্করামের ৫০ রানের বাইরে তেমন কেউ অবদান রাখতে পারেননি। লিউস দু প্লুই ১৭ বলে ২২ রান করেন। ২০ বলে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন রশিদ। এটি হান্ড্রেডে তার ক্যারিয়ারের প্রথম এবং চলতি আসরেরও প্রথম পাঁচ উইকেট। রশিদের পর বাকি কাজ শেষ করেন এমআই-এর পেসাররা; টম কারান দুটি এবং ট্রেন্ট বোল্ট ও রিচার্ড গ্লিসন একটি করে উইকেট নেন।

নিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন রশিদ খান। এই বড় জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এমআই লন্ডন।