প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ও জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, পাবনা’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময় এবং সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমান।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমানের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, খালেদ হোসেন পরাগ তার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়ীদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেল করে আসছেন। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হামলা ও হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। পাশাপাশি সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, দিলালপুর এলাকার মো. আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির একটি হিসাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হতো।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সরকারের পাশাপাশি বিএনপির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তারা খালেদ হোসেন পরাগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন খালেদ হোসেন পরাগ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোথায়, কার কাছ থেকে, কবে কত টাকা চাঁদাবাজি করেছি বা কার জমি দখল করেছি—এর একটি প্রমাণও তারা দেখাতে পারবে না।’
পরাগ দাবি করেন, বালিশকাণ্ডসংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আনার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় এখন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।