বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করলেও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংকট কাটছে না। এবার ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সংস্থাটির কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য। তারা একটি জরুরি সভা ডেকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি সভার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহের লক্ষ্যে কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এই বিদ্রোহী সদস্যরা। এই উদ্যোগ সফল হলে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হতে পারে।

ফিফা কাউন্সিলে মোট সদস্য সংখ্যা ৩৭ জন। নিয়ম অনুযায়ী, জরুরি সভা বাধ্যতামূলক করতে অন্তত ১৯ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এই সংখ্যা পূর্ণ হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে সভা আয়োজন করতে হবে। বর্তমানে কাউন্সিলে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার নয়জন এবং কনকাকাফের পাঁচজন প্রতিনিধি রয়েছেন। এই দুই অঞ্চলের সব সদস্য সমর্থন দিলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হবে না। ফলে এই বিদ্রোহ সফল করতে এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

তবে জরুরি সভায় ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো গেলেও তাকে সরাসরি পদচ্যুত করার ক্ষমতা কাউন্সিলের নেই। তিনি যদি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের অসাধারণ কংগ্রেস আহ্বান করা।

অসাধারণ কংগ্রেস ডাকতে ৪৩টি সদস্য দেশের লিখিত আবেদনের প্রয়োজন। উয়েফার সদস্য দেশই ৫৫টি হওয়ায় তারা চাইলে এককভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করতে হলে অন্তত ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন হবে।

মূলত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার কারণেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়। উয়েফা তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে এবং কনকাকাফ ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি তুলেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অনেক সদস্যও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।

প্রবল চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করেন ইনফান্তিনো। তবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেও বিরোধীদের শান্ত করতে পারেননি তিনি। তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পদত্যাগ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আগামী মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ইনফান্তিনোর। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে হবে। তবে কাউন্সিলের এই বিদ্রোহ প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে তার আগেই বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে ফিফা।