যশোরের চৌগাছায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম আরাফাত হোসেন রাব্বি (২২), তিনি চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শনিবার (২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৮ বছর বয়সী তরুণী ও আরাফাত হোসেন পরস্পর আত্মীয়। শনিবার সকালে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির কাজে সহযোগিতার কথা বলে আরাফাত ওই তরুণীকে মোটরসাইকেলে করে চৌগাছা শহরে নিয়ে যান। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এরপর বিভিন্ন কথা বলে তাকে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনার পর বাড়ি ফিরে তরুণী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান এবং রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চৌগাছা থানায় গিয়ে নিজে বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, "ভুক্তভোগী তরুণী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমন হাসান দাবি করেছেন যে, আরাফাতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা। তার মতে, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আরাফাতের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা রয়েছে এবং সেই বিরোধের জেরেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরাফাত হোসেন রাব্বিকে সংগঠনের সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যশোর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শাহ্ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।