প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রস্তুতি হিসেবে বিজ্ঞান বিষয়ের একটি বিশেষ অনুশীলনী প্রকাশ করা হয়েছে। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর ভিত্তি করে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ ও তার সঠিক উত্তর প্রস্তুত করেছেন।
অনুশীলনীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্ক, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, পরাগায়ন এবং বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তর, উৎপাদক ও খাদকের সংজ্ঞা এবং খাদ্যজালের ধারণা পরিষ্কার করার জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
শিক্ষক মিজানুর রহমানের প্রস্তুতকৃত প্রশ্ন ও উত্তরগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি জীব কোনো না কোনোভাবে—জড় বস্তুর ওপর নির্ভরশীল।
২. আমাদের শ্বাসকার্য চালানোর জন্য—বায়ুর প্রয়োজন।
৩. উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ুর—কার্বন ডাই–অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে।
৪. মাটিতে থাকা পুষ্টি উপাদান—পানির মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়।
৫. পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের ওপর—নির্ভরশীল।
৬. প্রাণী শ্বাসক্রিয়ায় যে কার্বন ডাই–অক্সাইড ত্যাগ করে, উদ্ভিদ তা—সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে।
৭. উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন—অক্সিজেন প্রাণী শ্বাসগ্রহণের সময় ব্যবহার করে।
৮. গাছের ডালে পাখি, বানর ও মৌমাছির বসবাস প্রমাণ করে যে উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর—আবাসস্থল।
৯. মৌমাছি ও প্রজাপতি ফুলে ফুলে ঘুরে উদ্ভিদের—পরাগায়ন ঘটায়।
১০. পরাগায়ন না হলে অধিকাংশ উদ্ভিদের—বংশবৃদ্ধি সম্ভব হবে না।
১১. বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচে প্রকৃতিতে—জড় উপাদানে পরিণত হয়।
১২. উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে—পরিবেশে ভারসাম্য বজায় থাকে।
১৩. প্রাণীর হাড়ের গুঁড়া থেকে তৈরি—সার মানুষ ফসল ফলাতে ব্যবহার করে।
১৪. মানুষ যখন পশুপালন করে, তখন প্রাণীর—খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে।
১৫. মানুষ—চাষাবাদের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
১৬. বনায়নের মাধ্যমে মানুষ উদ্ভিদের—সংখ্যাবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
১৭. যেসব প্রাণী অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদকে খায়, তারা হলো—খাদক।
১৮. যা খেয়ে প্রাণী জীবন ধারণ করে, তাকে—খাদ্য বলে।
১৯. খাদ্য ও খাদকের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে —খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি হয়।
২০. বেঁচে থাকার জন্য জীবের—শক্তি প্রয়োজন হয়।
২১. সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে বলে তাকে —উৎপাদক বলা হয়।
২২. প্রাণীরা নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না বলে, তাদের—খাদক বলা হয়।
২৩. যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তারা হলো—প্রথম স্তরের খাদক।
২৪. যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে, তারা হলো—দ্বিতীয় স্তরের খাদক।
২৫. একটি খাদ্যশৃঙ্খলে ঘাসফড়িংকে যদি ব্যাঙ খায়, তবে ব্যাঙ হবে—দ্বিতীয় স্তরের খাদক।
২৬. দ্বিতীয় স্তরের খাদককে যারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তারা হলো—তৃতীয় স্তরের খাদক।
২৭. সাপ ব্যাঙকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে, সাপকে—তৃতীয় স্তরের খাদক বলা হবে।
২৮. অধিকাংশ তৃতীয় স্তরের খাদক—মাংসভোজী।
২৯. খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরকে—খাদ্যস্তর বলে।
৩০. কোনো বাস্তুসংস্থানে বিদ্যমান একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্র হয়ে—খাদ্যজাল তৈরি করে।