গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় এক তরুণীর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাহফুজ সরকার রাকিব। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই তরুণীর সাথে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঘোলদহ সৈয়দপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালু ছাত্রনেতার আটক ও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঘোলদহ সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের বাড়িতে যান মাহফুজ সরকার রাকিব। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে ঘরে আটক করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে খবর দেওয়া হয়। এরপর শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আব্দুল জলিলের মেয়ে জুঁই আক্তারের সাথে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে মাহফুজের বিয়ে দেওয়া হয়।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ফয়জার রহমান জানান, রাত ১টার দিকে এক তরুণীর বাড়িতে ওই ছাত্রনেতার আসার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পরে স্থানীয়রা তাদের একসঙ্গে আটক করে।

এই ঘটনায় ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, “একজন জেলা পর্যায়ের ছাত্রনেতা যদি গভীর রাতে কোনো তরুণীর বাড়িতে গিয়ে এভাবে ধরা পড়েন, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কাদের অনুসরণ করবে?”

কঞ্চিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালু জানান, ওই তরুণীর সাথে মাহফুজের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাতে এলাকাবাসীর হাতে তিনি আটক হওয়ার পর স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাত লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাহফুজ সরকার রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিবাহের কথাবার্তার দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুরুল হুদা মুক্তকণ্ঠকে জানান, ছাত্রনেতা রাকিবের আটক ও বিয়ের বিষয়ে পুলিশকে কেউ কিছু জানাননি। তবে খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।