২০১৯ সালে দেশে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে, লবণ পাওয়া যাবে না এবং পাওয়া গেলেও প্রতি কেজি দাম হবে ২০০ টাকা। এই গুজবের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে যারা এটি ছড়িয়েছে, তাদের বুদ্ধিমত্তায় আমি মুগ্ধ। এক গুজবে পুরো বাংলাদেশ তোলপাড় হয়ে যায়। ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দেখা যায়। এক ইন্টেলেকচুয়াল বড় ভাইকে দেখলাম প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিতে—‘যে যেভাবে পারেন, লবণ কিনে রাখেন। নইলে পরে লবণ আনতে পান্তাও জুটবে না। থ্যাংক মি লেটার।’
আমি এসব পড়তে পড়তে হাসি পেলাম, কিন্তু কিছুটা দুঃখও হলো। ছবিতে দেখি এলাকার দোকানে লম্বা লাইন। এসব দেখে আমার চিন্তা হলো, আমার আম্মা–আব্বাও তো এই নিউজটা দেখবে। তারা কি…
লাফ দিয়ে নিজের ঘর থেকে বের হলাম। দেখি বাসায় কেউ নেই। আম্মাকে ফোন দিলাম। আম্মা ফোন ধরে বলল, ‘লাইনে আছি, পরে ফোন দে।’
‘লাইনে কী করো?’
‘কাল থেকে লবণ থাকবে না। আজকেই কিনে রাখি।’
‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’
‘আব্বা কই?’
‘তোর আব্বায় পাশের এলাকার দোকানের লাইনে।’
আমি হতাশ মুখে ফোন রাখলাম। সেবার যে পরিমাণ লবণ তিন গুণ দামে কিনে রেখেছিল আমার পরিবার, সেই লবণ ২০২৬ সালে এসেও খেয়ে শেষ করতে পারিনি।
সম্প্রতি দাঁত মাজার পেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, এই খবরটি মনে পড়িয়ে দেয় লবণের গুজব।
এলাকার হোটেল থেকে নষ্ট তেলের ভাজাপোড়া খেয়ে, প্লাস্টিকের ওয়ানটাইমে চা খেতে খেতে আমার বন্ধু বলছিল, ‘কী খেয়ে বাঁচব আমরা, পেস্টেও প্লাস্টিক!’
আমি মিনমিন করে বললাম, ‘পেস্ট তো আর খাওয়ার জিনিস না!’
বন্ধু গম্ভীর মুখে বলল, ‘দাঁত মাজার সময় সবাই পেস্ট খায়। কেউ স্বীকার করে, কেউ করে না।’
আমি সামান্য টেনশনে পড়লাম। বন্ধুর কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে বাচ্চাদের পেস্ট তো খেতে খুবই ভালো…
কী আর করার। বেঁচে থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে নো কম্প্রোমাইজ। দুই বন্ধু মিলে নিমের দাঁতন কিনে বাসায় ফিরলাম। খোলা জিনিস কিনব, এমন বোকা আমরা না। ভালো দোকান থেকে কিনেছি। দাঁতনগুলো রীতিমতো প্লাস্টিকের বাক্সে প্যাকেট করা।
[এদিকে টাইম ম্যাগাজিনের খবর: প্লাস্টিকের বোতলের পানিতে লিটারে থাকে ২ লাখ ৪০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর টুথপেস্টের ঢাকার গবেষণা: ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩০০]