ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিকই রয়েছে। আলী রীয়াজের লেখা দ্বিতীয় পর্বে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


রয়টার্সের সঙ্গে ১০ জুলাইয়ের পরে এএফপির সঙ্গে ২৯ জুলাই একই কথা বলেছেন—এমনভাবে শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশে ‘ফিরতে’ চান। তবে কথিত ‘ফেরা’র পথটি যে বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন—এই দুই কাঠামোর ভেতরেই নির্ধারিত, এবং বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সেগুলো বারবার চাওয়া হয়েছে—তা তিনি নিশ্চয়ই জানেন। ফলে তাঁর এই বক্তব্যের পেছনে রাজনীতি মুখ্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে লেখক মনে করেন।


লেখকের ভাষ্য, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অন্ততপক্ষে একটি অংশের অবগতি ছাড়া এবং তাঁদের দিক থেকে কোনো রকমের ইঙ্গিত ছাড়াই এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে—এমন ধরে নেওয়ার কারণ নেই। এই রাজনীতিরও দুটি বড় দিক দেখা যায়—একটি শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সম্পর্কিত, আর অন্যটি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক-সংক্রান্ত।


রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হতে পারে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উজ্জীবিত করা। লেখক বলেন, তাঁর অনুসারীদের স্বল্প আকারে চলা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে তিনি উৎসাহী—এমন ধারণাও তৈরি হয়। একই সঙ্গে চাপ তৈরির একটি হিসাবও থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরেকটি দিক হলো, তাঁকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা যেন না হয়—বিশেষ করে দেশের ভেতরে কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ না করার বার্তা যেন পৌঁছে যায়। আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা চলাকালে শেখ হাসিনা ‘দেশে ফিরতে’ চান—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে লেখক উল্লেখ করেন; পাশাপাশি আইনি জটিলতার জন্য তাঁকে ফিরতে না পারার প্রসঙ্গকে তিনি বাংলাদেশ সরকারের ওপর দোষ চাপানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।


ঘোষণার সময় নির্বাচনের বিষয়টিও লেখকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা জুলাই মাসকে বেছে নিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আলোচনার বিষয় হিসেবে উপস্থিত থাকার সুযোগ রাখতে। এ ঘোষণাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভেতর মতভেদ তৈরির সম্ভাবনাও ছিল বলে তিনি মনে করেন।


নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনার বিচার ও প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঐক্য বজায় আছে—এ কথা লেখক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ফ্যাসিবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কাজে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদেরাই এ বিষয়ে ভিন্ন স্বরে কথা বলছেন। ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের সময় নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা তৈরি, এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপর আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র দাবির বয়ান অব্যাহত রাখার প্রসঙ্গও কথিত ‘ফেরার’ সময় নির্ধারণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে অনুমান করা যায়।


লেখকের মতে, এগুলো ভারতের জন্য নির্ধারক নয়; তবে তা ভারতের জন্য সহায়ক। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেও সেগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


তবে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কতটা ইতিবাচক—তা প্রশ্নসাপেক্ষ বলে লেখক উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন—ক্রমাগত কথিত পুশ ইন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকা, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জমি বরাদ্দ, পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের শরিক দলের নেতাদের কথাবার্তা, পশ্চিম বাংলায় এনআরসি বাস্তবায়নের ঘোষণা এবং বাণিজ্যঘাটতি মেটানোর পদক্ষেপে শ্লথগতি।


আরও বলা হয়, এ বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তিস্তা চুক্তির প্রশ্নটি দীর্ঘদিন অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নতুন চুক্তি না হলে দর-কষাকষির একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও লেখক মনে করেন।


লেখক উল্লেখ করেন, চীনের সহযোগিতায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ব্যাপক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের কথাও বলা হচ্ছে এবং মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভারতকে উদ্বিগ্ন করে—এটাও বোঝা যায় বলে লেখক জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব কারণেই বিএনপি সরকারকে ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করতে সহযোগিতা করতে পারে বলেও লেখকের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।


লেখক বলেন, ১৪ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ও বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচারণার সুযোগ করে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের জনগণের এক বড় অংশের মধ্যে ভারতের প্রতি যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, বিএনপি সরকারের পক্ষে তা অগ্রাহ্য করা কঠিন।


তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিবিসি বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এখন তারা যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সঙ্গে শীতল থাকবে। সো, আমাকে আমার দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।’


শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারত সরকারের অবস্থান, ভারতে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় দেওয়া, এবং ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত সংবাদে কলকাতায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এসব বিবেচনায় লেখকের মতে, ভারতের আওয়ামী লীগনির্ভর নীতিই অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে কেউ কেউ আশা করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের আশু প্রত্যাবাসন ঘটবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ভারত আগ বাড়িয়ে কিছু করবে কি না—তা প্রশ্নের বিষয়।


বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও তখন সীমিত ছিল। ভারত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে অসম সম্পর্ক তৈরি করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। আর ভারত হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতায় রেখেছিল, তার বিনিময় হিসেবে হাসিনার কাছে থেকে এই ভূমিকা চাইলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। ফলে শেখ হাসিনা পলাতক থাকা অবস্থায় সময়-সময় উত্তেজনা, বিরক্তি এবং বিভক্তি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করবেন।

লেখক আরও উল্লেখ করেন, ভারতের পররাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নীতির দিকে নজর রাখেন—এমন ব্যক্তিরা সতর্ক করেছেন যে এ ধরনের চেষ্টা ক্ষতিকর হবে (বিবিসি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়—এটা বোঝা যায় বলে লেখক জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং বাংলাদেশের ভেতরে সহিংসতার উসকানি দিয়ে আসছেন।


তবে ৩০ জুলাই ভারতের লোকসভায় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করতে দেওয়ার নীতি হাসিনার ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়েছে। লেখকের মতে, এটি ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই বিবেচনা করা দরকার। ভারতের উচিত হবে এই নীতি যে অনুসৃত হচ্ছে তা সুস্পষ্ট করা—আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তা বোঝা যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মুক্তকণ্ঠ, ২৯ জুলাই ২০২৬ অনুসারে, সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মধ্যকার আলোচনায় এই বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে যে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেট (নতুন করে শুরু) করা দরকার।


লেখকের ভাষ্যে, ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ভারতের নীতিনির্ধারকরা কী ভাবছিলেন—সেখান থেকে এখনকার পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় বিবিসিকে ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ টি সি এ রাঘবন বলেছিলেন যে বিপদের মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে ভারত যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, সেটাই ভারতের নীতি—তাঁকে ‘আরও বড় বিপদে ফেলা’টা ভারতের জন্য কোনো ‘অপশন’ হতেই পারে না! একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার পাশে এখন যদি আমরা না দাঁড়াই, তাহলে বিশ্বের কোথাও আর কোনো বন্ধুদেশের নেতা ভারতকে বিশ্বাস করতে পারবেন না, ভারতের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন না।’ (বিবিসি বাংলা, ২৪ আগস্ট ২০২৪)


লেখকের মতে, ভারতের এই নীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটেনি। তাই আইন যা-ই বলুক, রাজনীতির বিবেচনায় ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উৎসাহী হবে না—এমন ধারণাও উঠে আসে। তবে আশ্রয় দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমিত থাকবে কি না, সেটাই দেখার বিষয় বলে লেখক উল্লেখ করেন।


বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত হাসিনাকে ‘লেভারেজ’ বা সুবিধা দেওয়ার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও অনুমান করা হয়। এত দিন তার একটি অন্যতম পথ ছিল হাসিনাকে এমন ধরনের কথাবার্তা বলার সুযোগ দেওয়া, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে—যাতে ক্ষমতাসীন দল চাপে থাকে। হাসিনার সাম্প্রতিক কথাবার্তাও এমন পটভূমি তৈরির ইঙ্গিত দেয় বলে লেখক মনে করেন।


লেখকের বক্তব্য, শেখ হাসিনা এ ধরনের ভূমিকা পালন করতে আপত্তি করবেন না—এমন ধারণা করার কারণও আছে। তাঁর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে হাজির রাখা। ১৯৭৫-৮০ সালে ভারতে অবস্থানকালেও শেখ হাসিনা নিজের জন্য এই বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়; তবে তখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল ভিন্ন ধরনের। ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক শক্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ততটা প্রবল ছিল না এবং ভারতের রাজনীতিবিদেরা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় বেশি ব্যস্ত থাকায় শেখ হাসিনাকে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে সুবিধা লাভের উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি—এ কথাও লেখকের আলোচনায় রয়েছে।


লেখকের মতে, বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও তখন সীমিত ছিল। ভারত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে অসম সম্পর্ক তৈরি করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইবে—এটা স্বাভাবিক বলেও তিনি মনে করেন। সেই বিনিময় হিসেবে ভারত হাসিনার কাছ থেকে একটি ভূমিকা চাইলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকে না। ফলে শেখ হাসিনা পলাতক অবস্থায় সময়-সময় উত্তেজনা, বিরক্তি ও বিভক্তি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করতে পারেন। তবে ভারতের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখা দরকার যে হাসিনার এই ভূমিকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


শেষ পর্বে লেখক আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সরকার, নীতিনির্ধারকেরা ও রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান, বক্তব্য ও কৌশল নির্ধারণ করবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণের জন্য হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের ওপর ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ অব্যাহত রাখতে কুণ্ঠিত হবে না।



  • আলী রীয়াজ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর


  • মতামত লেখকের নিজস্ব