বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ইন্টার মায়ামির জার্সিতে লিওনেল মেসির প্রত্যাবর্তন যেন বৃষ্টিভেজা ন্যু স্টেডিয়ামকে মুহূর্তেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে দেয়। পুরো স্টেডিয়াম যেন কেবল তাঁরই অপেক্ষায় ছিল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে মেসি মাঠে নামতেই শেষ হয় সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আর মুহূর্তেই গ্যালারিজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। সমর্থকদের কণ্ঠে একসুরে ধ্বনি ওঠে—‘মেসি! মেসি!’।

তবে প্রত্যাশিত জয় সমর্থকদের উপহার দিতে পারেননি ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক। ঘরের মাঠে কলম্বাস ক্রূর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে তার দল। এই ফলাফলের ফলে মায়ামির টানা ছয় ম্যাচে জয়ের ধারা থেমে গেল। তবে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের পয়েন্ট তালিকায় তারা এখনো দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলও নিজেদের ম্যাচে ড্র করায় মায়ামি তাদের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্টেই পিছিয়ে আছে।

মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার আরেক তারকা রদ্রিগো দি পলও বিশ্বকাপের পর আজ মাঠে ফিরেছেন। শুরু থেকেই খেলেছেন তিনি এবং মায়ামির দ্বিতীয় গোল তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বিশ্বকাপ শেষে মেসি ও দি পলের সর্বোচ্চ ২১ দিন পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকলেও দুজনেই দ্রুত ক্লাবের অনুশীলনে ফেরেন। বুধবার অনুশীলনে যোগ দেওয়ার পর আজ প্রথমবার ম্যাচ খেলেছেন তারা।

মেসি মাঠে নামার আগ পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচের ১৬ মিনিটে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে দারুণ এক লব শটে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে ৩৪তম মিনিটে কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে কলম্বাস। তিন দিন আগে মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে অভিষেকের পর আজ মায়ামির মাঠে প্রথমবার নেমেছিলেন কাসেমিরো।

সমতার পর বিরতির আগে মায়ামি আবারও লিড নেয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সুয়ারেজের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন নোয়া অ্যালেন। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি মাঠে নামার পর মায়ামির আক্রমণে গতি বাড়লেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৪ মিনিটে একটি ফাউলের পর পাওয়া ফ্রি কিক থেকে গোল করে কলম্বাসকে সমতায় ফেরান মেন্দেজ।

এমএলএস পয়েন্ট তালিকায় ১৮ ম্যাচে মায়ামির পয়েন্ট ৩৮ এবং ন্যাশভিলের ৪০। আগামী ৬ আগস্ট স্যান লুইসের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে মেসিরা।