জামালপুরের মেলান্দহে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, ‘জিনে আসর’ করায় তাদের ছেলে ও মেয়েকে নির্দানেই রাতে কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহের ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে মেলান্দহ ও জামালপুর শহরের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বৃদ্ধাকে মৃত বলে চূড়ান্ত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহটি পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। মৃত নারীর নাম হালিমা বেগম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমা বেগমের মৃত্যু হলে শনিবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্য অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং দাবি করেন, জিনে আসর করা সন্তানরা জানিয়েছে যে তাদের মা এখনো জীবিত আছেন।

এই দাবির প্রেক্ষিতে শনিবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে হালিমা বেগমের মরদেহ তুলে আনেন। প্রথমে মরদেহটি মেলান্দহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা বৃদ্ধাকে মৃত বলেই নিশ্চিত করেন।

চিকিৎসকদের মৃত্যুর নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে মরদেহটি পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নেন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্য কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ বা লিখিতভাবে কিছু জানায়নি।’