দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। তবে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম প্রস্তাব বা চূড়ান্ত করা হয়নি এই বৈঠকে। সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমার আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠকটি শুরু হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং রাত সাড়ে ৯টায় শেষ হয়।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা নিয়োগসংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ড. আব্দুল মঈন খান ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মত দেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারির আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত হবে না।

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।