নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। কখনও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, আবার কখনও ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।

প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের ফলে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ডোমারের মির্জাগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, "প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। বিক্রি অনেক কমে গেছে, প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।"

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পড়াশোনায় সমস্যার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, "রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করা যায় না। আর সন্ধ্যার দিকে একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা আসার নাম থাকে না। এভাবে পড়াশোনা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"

অন্যদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, "গরমের সময় বিদ্যুতে নাকি লোড বেশি থাকে, তাই লোডশেডিং দেওয়া হয়—এমন অজুহাত শোনা যায়। কিন্তু বর্তমানে বর্ষাকাল, এখন কিসের লোড? এভাবে সাধারণ মানুষকে বারবার ভোগান্তিতে ফেলার কারণ কী?"

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্তত আগাম সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে নেসকোর ডোমার উপজেলার বিক্রিয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওশাদ আলম বলেন, "জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের বিদ্যুতের যা চাহিদা, তার মাত্র অর্ধেক বরাদ্দ পাচ্ছি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংও অনেকাংশে কমে আসবে।"