জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে মহানগর বিএনপি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি এই শহরে প্রবেশ করলে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহরের মিশনপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন বলেন, “মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। ভবিষ্যতে তিনি নারায়ণগঞ্জে আসার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনীতি করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কটূক্তি করা হলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া হবে।”

তারেক রহমানকে নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের ইতিহাসেও এমন তিন প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়কের উদাহরণ বিরল। সেই তারেক রহমানকে নিয়ে সামান্য তেলাপোকা ও ছারপোকারা যদি কিছু বলে, তাহলে তাদের পা দিয়ে পিষে ফেলা উচিত।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অতীত পেশা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একসময় আরএফএলের সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করতেন। আমার কাছে তার ছবিসহ প্রমাণ রয়েছে। তিনি লজিং মাস্টার ছিলেন। আসিফ, নাহিদ ও হাসনাতরা ৫ আগস্টের আগে কোথায় ছিল? তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছত্রচ্ছায়ায় তাদের লুঙ্গির নিচে ছিল। আজ তারা বড় নেতা সেজেছে। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর ধরে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতি করেছে। তাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।”

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।

বিক্ষোভ সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, মহানগর বিএনপির সদস্য মাকিদ মোস্তাকিন শিপলু, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্যসচিব ফারুক হোসেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনসহ মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।